সাহিত্য কবিতাবলী
Printed Edition
আবু হেনা আবদুল আউয়াল
হতাশার দিন শেষ
হতাশার দিন শেষ-
আশাদিন শুরু
গা ঝেড়ে ওঠুন সবে
এবার গড়ব নতুন বাংলাদেশ
পূর্বাশার সূর্যে ফর্সা দিগন্তের প্রতিটি প্রান্তর
প্রতিক্রিয়ার শত্রুরা পালিয়ে নিরুদ্দেশে
বিপ্লবের গানে ও স্লোগানে মুখরিত অলি গলি রাজপথ
রসুন-কোয়ার ঐক্যে জনতা এখন মাঠে ময়দানে
ইনকিলাবের ঝাণ্ডা ওড়াচ্ছে ওই মুক্ত আকাশে বাতাসে
মিথ্যা বয়ানের গালগল্প ছিঁড়েছুড়ে
লিখছে এক গণ-ইতিহাস
আগামীর বাংলাদেশ
ধর্মকর্ম সাম্য শান্তি প্রগতির উজ্জ্বল উর্বর স্বপ্নভূমি।
অনন্য কাওসার
লাশের স্মৃতিরা
সেদিন জেনেছি আমি মৃত লাশের
মিছিলে জেগে থাকা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ
আঁধার পর্দা ছিঁড়ে উন্মুক্ত বক্তৃতা
ভাষণের তেজোদৃপ্ত স্লোগান
তখনও আশাহত মেঘের স্বরে
কাটেনি দুপুর সন্ধ্যা দীর্ঘতম রাত
তখন ভাঙেনি দীনতার ক্ষয়িষ্ণু হাড়
অথচ সেদিন জেনেছি আমি মৃত
ভেঙে খান খান বুকের একরাশ বর্ণমালা
আঁধারে মিলিয়ে যাওয়া রাজকীয় শৈলজ
ইমারত ধসে পড়েছে অপলক।
মৃত লাশের স্মৃতিরা জেগেছে আজ
ধমনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিরা-উপশিরায়
রাত্রির বীভৎস অলিন্দে জড়সড়
আগ্নেয়াস্ত্র, আমার ভিসুভিয়াস।
নূরুন্নাহার নীরু
পরিচয়
মায়ের চোখের রাজপুত্তুর
স্ত্রীর জন্যে বীরপুরুষ
সন্তানের কাছে সোহাগভরা কোমল আশ্রয়
এই তো হাদির পরিচয়!
আর জাতির কাছে?
জাতির জন্য অনন্ত কালের বিপ্লবী পথিকৃৎ
যে শুধুই আপসহীন, যে শুধুই স্পষ্টভাষী,
শুধুই প্রতিবাদী, সেই তো হাদি।
হাদি মানেই বিশাল ঝঞ্জা! গভীর গর্জন,
প্রচণ্ড টর্নেডো! উড়ন্ত আইলা!
হাদি মানেই শক্তি, শক্তির হিমালয়!
হে প্রজন্ম জেনে রাখো-
এটাই হাদির পরিচয়!
হাফিজুর রহমান
হাদির লড়াই
প্রথম স্তম্ভিত হতে দেখেছি
আমার দেশের লাল-সবুজের পতাকাকে!
কাঁদতে দেখেনি মৃত্যুকে-
দেশপ্রেমে হাস্যোজ্জ্বল সেই প্রাণের,
ঝাঁঝালো বুলেটে ঝাঁঝরা হলেও
অন্যায়ে নত না হওয়া দৃঢ় এক মস্তকের।
কেঁপে ওঠে দেশের বিস্তৃত মানচিত্র
দেখিয়েছে তুমুল ঝাঁকুনি দিয়ে বিশ্বকে-
বিপ্লবের মৃত্যু নেই, দুর্দমনীয় বিস্ফোরণ।
অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকে বিকল করে
ছিঁড়তে বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রিত শিকল,
লড়েছে হাদি, শিখেছে হাদীরা-ও লড়তে।