সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

হাসিনা আমলে তালিকাভুক্ত ৪৮১ অ-মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভুয়াদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪৮১ জন অ-মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।

জবাবে মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে কিছু নেই। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রবাসে থাকা যে সব মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্রুত তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত হস্তান্তর এবং বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত দেশনেত্রীর আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি শীঘ্রই সিলেটের ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরো তথ্য সংগ্রহ করবেন বলে জানান।