জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে আইপিবিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

Printed Edition

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) জনিত রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিবিএস)-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চ্যাপ্টারের উদ্বোধন করা হয়। ঘানা, নাইজেরিয়া ও নেপালের পর বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই চ্যাপ্টার গঠনের অনুমোদন লাভ করেছে। আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা: আশরাফুন্নেসা ও অধ্যাপক ডা: কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ-এর প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: মো: আবুল কালাম আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা: মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ক্যান্সার ও এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদানের (ভ্যাক্সিনেশন) কোনো বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ডা: লুৎফা বেগম লিপি। বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশী সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অনুমোদন মিলেছে। অধ্যাপক ডা: কামরুন নাহার আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিএমইউ-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: নাহরীন আখতার বলেন, এইচপিভি প্রতিরোধে প্রাথমিক সচেতনতা, স্ক্রিনিং ও টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ভাইরোলজিস্ট, চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিএমইউ-এর সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা: নজরুল ইসলাম বলেন, এই মিশন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা: সৈয়দা নওশীন পারভীন, বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সায়েবা আখতার, আইসিডিডিআর, বি-এর এমেরিটাস বিজ্ঞানী ডা: ফিরদৌসী কাদরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ডা: লরা রাইখেনবাখ এবং আইপিবিএস-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক সুজান গারল্যান্ডসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার নির্মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এইচপিভি টিকাদান ও স্ক্রিনিংয়ের ওপর জোর দেন। সবশেষে কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।