শাকসু নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা
একদিকে রিট ও ইসি ঘেরাও, অন্য দিকে ভোটের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো ও শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
দীর্ঘ ২৯ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও মাত্র এক দিন আগে হাইকোর্টে রিট এবং ঢাকায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এই রিটে বিবাদি করা হয়েছে। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার ইসির নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাকসু নির্বাচন আয়োজন করা আইনসঙ্গত নয়। রিটটি আজ সোমবার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে শাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটের কথা শুনলেও তারা এখনো কোনো দাফতরিক আদেশ পায়নি; তাই ২০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।
ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচি : শাকসু নির্বাচন স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রোববার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ইসি সচিবালয় ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনে প্রভাব বিস্তার করে শাবিপ্রবি নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করিয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত। তিনি অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানান এবং কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : ঢাকায় ছাত্রদলের এই অবস্থানের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা ছাত্রদলের এই অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ে ভোট আদায়ের ঘোষণা দেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “একই সাথে শাকসুর পক্ষে কথা বলা এবং ঢাকায় গিয়ে স্থগিতের দাবি করা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। আমরা অভিভাবক হিসেবে প্রশাসনের কাছে যথাসময়ে নির্বাচন চাই।”
এ দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহসহ সাতজন প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০ জানুয়ারিই নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মুস্তাকিম বিল্লাহ ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, তাদের প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, “আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং ২০ তারিখে নির্বাচন চাই। কেন্দ্র থেকে কে কী করছে তা আমরা দেখতে চাচ্ছি না।”
সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২৯ বছর পর হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মোট ভোটার ৯ হাজার ৩০ জন। শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ জানান, প্রার্থীদের প্রচারণার সুবিধার্থে শেষ সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়েই প্রার্থীরা প্রচারণা শেষ করেছেন।
শাকসুর নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম বলেন, “হাইকোর্টে রিটের খবর আমরা শুনেছি, তবে কোনো আদেশ পাইনি। আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি এবং আশা করি নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” বর্তমানে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে হাইকোর্টের সম্ভাব্য আদেশ, অন্য দিকে শিক্ষার্থীদের ভোটের আকাক্সক্ষা- সব মিলিয়ে শাকসু নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং ইসির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।