বিশৃঙ্খলায় ফল স্থগিত
মিরসরাইয়ে হাজারো দর্শকের সামনে বলীদের শক্তির লড়াই
Printed Edition
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গ্রাম-বাংলার বলীখেলায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে চার দিক থেকে আসা দর্শকে মাঠ ও আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এবারের আসরটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নারী, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আগ্রহভরে উপভোগ করেন শক্তি, সাহস ও কৌশলের এই লড়াই। ছোট, মাঝারি ও বড়- তিনটি বিভাগে শতাধিক বলী অংশ নেন। মিরসরাই ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিযোগীরা এ খেলায় অংশ নেন।
খেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ‘বাঘা শরীফ’। এ ছাড়াও নোয়াখালীর মোশাররফ বলী, রাশেদ মালসহ অভিজ্ঞ ও নামকরা বলীরা মাঠ মাতিয়ে রাখেন।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, টেলিভিশন, বাইসাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলা, খাঁচা ফ্যান, কলস ও হটপটসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেয়া হয়। তবে দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণ স্থগিত রেখে খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
কুমিল্লা থেকে অংশ নেয়া শাহজালাল বলী বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে এই খেলায় অংশ নিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমার শিষ্যরাও খেলছে। আজ এখানে অংশ নিয়ে একটি বাইসাইকেল জিতেছি। বেশ ভালো লাগছে।’ আরেক প্রতিযোগী বাদশা বলী জানান, ‘প্রবাসে থাকার কারণে দীর্ঘ দিন খেলার বাইরে ছিলাম। দেশে ফিরে আবার অংশ নিতে পেরে আনন্দ পাচ্ছি বেশ।’
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সদস্যসচিব মীর হোসেন রাহাত বলেন, ‘শত বছরের বেশি সময় ধরে এই বলীখেলা আমাদের ঐতিহ্যেরই অংশ। টেকেরহাট যুবসমাজের উদ্যোগে এবারো এ খেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল দর্শক সমাগমে আমরা আনন্দিত। তবে বিশৃঙ্খলার কারণে চূড়ান্ত ফল স্থগিত রাখতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘একসময় নিয়মিত এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হলেও কয়েক বছর অনুষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। আবারো এই ঐতিহ্য ফিরে আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মিরসরাই ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজন ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।