মৌলভীবাজারে মা-ছেলেসহ বিভিন্ন স্থানে ৬ জন নিহত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারে মা ও ছেলেসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয়জন নিহত হয়েছেন।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলচালক একমি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো: বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের নান্নু ভূঁইয়ার ছেলে। সোমবার দুপুরে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভালু-গফরগাঁও সড়কে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের নান্নু ভূঁইয়ার ছেলে একমি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো: বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া ভালুকা উপজেলার চাপরবাড়ি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সোমবার মোটরসাইকেলে গফরগাঁও সড়ক থেকে ভালুকা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি দ্রুতগামী ট্রাক চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেল কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদীর তাঁত বোর্ডের সামনে (ফায়ার সার্ভিস অফিসসংলগ্ন) এলাকায় সোমবার মধ্য রাতে পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: বাবুল ঘরামী ওরফে বাবু ঘরামী নামে এক তরুণ নিহত ও দু’জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মহসীন আহম্মেদ জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী তাঁত বোর্ডের সামনে (ফায়ার সার্ভিস অফিস সংলগ্ন) এলাকায় সোমবার রাত ১০টার দিকে পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী তরুণ মো: বাবুল ঘরামী ওরফে বাবু ঘরামী ছিটকে রাস্তায় পরে গেলে পিছন থেকে অতি দ্রুতগামি সাকুরা পরিবহনের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবু ঘরামী নিহত হন। নিহত বাবু ঘরামী পাশের মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পশ্চিম মেনাজদি গ্রামের সেলিম ঘরামীর ছেলে। অপর দুই যাত্রী আহত হয়। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো: মিজানুর রহমান জানান, আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর ডোমারে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে জামেলা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কের বনওয়ারী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয় নিহতের স্বামী জামাল উদ্দিন। তারা দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি বলদিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ডোমারের কাজীপাড়ায় ছেলের বাসায় অবস্থানরত জামেলা বেগম চিকিৎসার জন্য স্থানীয় পালস হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মোটরসাইকেলে দেবীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে বনওয়ারী মোড় এলাকায় মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা রংপুর মেট্রো-ট-১১-০৩৪২ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা জামেলা ছিটকে পাকা সড়কে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের গয়াসপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে গয়াসপুর এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, রাতে গয়াসপুর এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের সাথে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে দু’জন নিহত হন। এই ঘটনায় ইদ্রিস আলীসহ আহত হন আরো তিনজন। নিহতরা হলেন বড়দল গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে জুবের মিয়া (১৮)। বড়দল গ্রামের আব্দুল মালিক বলেন, শাহ ইদ্রিস আলী এলাকার মুন্সিবাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় গয়াসপুর একটি প্রাইভেট কারের সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদা বেগম ও তার ছেলে জুবের মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ফরিদা বেগম বড়দল গ্রামের শাহ ইদ্রিস আলীর স্ত্রী।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আলমডাঙ্গার নববিবাহিত যুবক মজনু (২৭)। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার আনন্দধাম ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মজনু আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের নিজাম উদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।