স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাজ্য

Printed Edition
back-4
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে গতকাল রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মন্ত্রীকে এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো ক্যাম্পের নিরাপত্তা, শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রত্যাবাসন

ও ক্যাম্পে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি।

যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একমত উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়মিত বিতর্ক বা আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পটলাইটে রাখতে চাই। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মতো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আমরাও বিশ্বাসী, তবে তা নিরাপদ হতে হবে।

বৈঠকে দু’ দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার, অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনার মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফোলিও’তে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বলেন, ভিসা প্রতারণা বন্ধ করতে দু’দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি সই করা হবে। যুক্তরাজ্য চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করে পাঠিয়েছে। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে চাই। এ সময় হাইকমিশনার বলেন, দু’দেশের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মিটিং আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী পুলিশ সংস্কারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন। তা ছাড়া দু’দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও বন্দী প্রত্যর্পণ বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেন। তা ছাড়া দু’দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় হাইকমিশনার আগামী ১৬-১৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য একটি সম্মেলনের সাইডলাইনে দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার পলিটিক্যাল কাউন্সিলর টিম ডাকেট, জাস্টিস এন্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয় কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজোঁ অ্যান্ড মাইগ্রেশন অফিসার আবদুল ওয়াহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিকল্পনা

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আলোকসজ্জা করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্বালানি সঙ্কট মাথায় রেখে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রথাগতভাবে স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সঙ্কট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সে জন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নি-িদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। তিনি আরো বলেন, সড়ক পরিবহনে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি বজায় থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ না হয়, সে জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র নেতাদের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও মব জাস্টিস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জায়গার ঘটনাগুলোও পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছে।

মব জাস্টিস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মব এক জিনিস আর কিছু কিছু ক্রাইম, স্পট ক্রাইম এক জিনিস। সবগুলোর সাথে মব গুলিয়ে ফেললে হবে না। সব ঘটনাকে মব বলা চলবে না। প্রতিটি ঘটনায়ই পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দেখলাম নরসিংদীতে একটা মেয়েকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। পরে তদন্তে দেখা গেল তার সাথে তার নিজের সৎ বাবা জড়িত। কিন্তু প্রাথমিকভাবে আমরা যারা ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছি এবং ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা কাস্টডিতে আছে এবং অনেকে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এইভাবে আরো দু-একটা ঘটনার কথা আমরা জানি, চট্টগ্রামের ঘটনার কথাও জানি। আমরা অ্যাড্রেস করছি সব বিষয়গুলো। মবের সাথে তুলনা করলে হবে না। কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে। তবে আমরা অবশ্যই মবের বিষয়ে সিরিয়াস এবং মব কালচার বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হবে।