ডিজেল সঙ্কটে বিপাকে কৃষক, সেচ ও ধান কাটা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

Printed Edition
bangla-2
তেল সঙ্কটে অচল পড়ে আছে শ্যালো মেশিন : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চলতি বোরো মৌসুমে ডিজেল সঙ্কটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। ময়মনসিংহে জ্বালানির অভাবে থমকে গেছে ধান কাটা ও মাড়াইয় কার্যক্রম। যার প্রভাবে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ কৃষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্য দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সেচযন্ত্র সচল রাখতে না পারায় পানির অভাবে ফেটে চৌচির হচ্ছে ধানক্ষেত। পাম্পগুলোতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় এক দিকে যেমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। অন্য দিকে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। জ্বালানি সঙ্কটের কৃষকের ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন মøান হতে বসেছে। কৃষকের হাহাকার তুলে ধরেছেন ময়মনসিংহ অফিস ও কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা।

ময়মনসিংহে ডিজেল সঙ্কটে থমকেছে ধান কাটা ও মাড়াই : বিভিন্ন উপজেলায় চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হারভেস্টার মেশিন ও মাড়াইকলের চালকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকের কাজ করতে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। এতে অতিরিক্ত মজুরিতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক।

সরেজমিন দেখা যায়, নান্দাইল, গৌরীপুর ও ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্প ও ডিলার পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো ডিজেল মিলছে না। নান্দাইলের মাড়াইকল চালক বাবুল মিয়া ও আব্দুল জব্বার জানান, প্রতিদিন ৩০-৪০ লিটার তেল প্রয়োজন হলেও ৫ লিটারের বেশি জুটছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা কাঠাপ্রতি মাড়াই খরচ ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করেছেন। হারভেস্টার চালক মজনু মিয়া ও কৃষক আব্দুল করিম একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তেলের অভাবে তাদের মেশিনগুলো দিনের অধিকাংশ সময় অলস পড়ে থাকছে। গত বছর প্রতি কাঠা ধান কাটতে ৬০০ টাকা নিলেও এবার তা ৭০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

তারাকান্দা ও সদরের কৃষকরা অভিযোগ করেন, তেলের সঙ্কটের সুযোগে একশ্রেণীর মাড়াইকল মালিক কাঠাপ্রতি আগের চেয়ে বেশি দাম দাবি করছেন। ফুলবাড়িয়ার কৃষক নাজমুল হক জানান, ধানের বাজারদরের চেয়ে শ্রমিকের মজুরি ও মাড়াই খরচ অনেক বেশি হওয়ায় এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নান্দাইল ইউএনও ফাতেমা জান্নাত জানান, কৃষিকাজে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিজেলের অজুহাতে কেউ অতিরিক্ত মজুরি নিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কলাপাড়ায় পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাঠজুড়ে পানির অভাবে ধানক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দ্রুত সেচের ব্যবস্থা করা না গেলে বাড়তে থাকা ধানের চারাগুলো বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে। অথচ ডিজেল সঙ্কটের কারণে ক্ষেতের পাশে থাকা সেচ মেশিনগুলো এখন অচল হয়ে পড়ে আছে।

ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা ও নয়াকাটা এলাকার কৃষকরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষক আল আমিন জানান, তেলের অভাবে সেচ দিতে না পারায় ধানের চারা ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের কারণে কৃষকদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে না। কখনো এক-দুই লিটার পাওয়া গেলেও তা দিয়ে বিশাল ক্ষেতের সেচ দেয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে ধানের থোড় আসার সময় নিয়মিত পানি না পেলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, এ বছর কলাপাড়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় পানির উৎস সীমিত। এ ছাড়া জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়ায় কৃষকরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। নীলগঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সেচের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। কলাপাড়া ইউএনও কাওছার হামিদ বলেন, দ্রুত এই সঙ্কট সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।