মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে তেলবাহী জাহাজের চাহিদা হ্রাস ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা
Printed Edition
আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হ্যানওয়া ওশান। প্রতিষ্ঠানটির মতে যুদ্ধের কারণে বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চাহিদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জাহাজের ভাড়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সেখানে বেশ কিছু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধজনিত মুদ্রাস্ফীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় কন্টেইনারবাহী জাহাজের চাহিদাও হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলোর একটি বাণিজ্য সংগঠন জানিয়েছে, বন্ধ হরমুজ প্রণালীতে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় দুই হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরত কার্যকর থাকলেও, সঙ্ঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য প্রচেষ্টা চলছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার চালু করা সম্ভব নয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরে প্রবেশ-প্রস্থানকারী নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এরপর তারা একাধিক জাহাজ আটক করেছে। এ ছাড়া অনেক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করার অথবা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।