১০০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

বাজারে আসতে শুরু করেছে বাঁশখালীর লিচু

Printed Edition
bangla-2
১০০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মৌসুমি ফলের বাজারে আসতে শুরু করেছে কালিপুরের বিখ্যাত রসালো লিচু। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাঁশখালীর এই স্থানীয় জাতের লিচুর চাহিদা বরাবরই তুঙ্গে। শুরুর দিকে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় বর্তমানে প্রতি ১০০ লিচু ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে পুরোদমে বাজারে লিচু পৌঁছাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৫৬৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। চলতি মৌসুমে শুধুমাত্র বাঁশখালী থেকেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ বছর এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ হেক্টর বাগানে লিচু চাষ হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই এই অঞ্চলে লিচু চাষের পরিধি ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় এক হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছিল। এছাড়া কক্সবাজারে ৮৮ হেক্টর, নোয়াখালীতে ৫২ হেক্টর, ফেনীতে ৭৫ হেক্টর এবং লক্ষ্মীপুরে ৪৮ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদন হয়। গত বছর বাঁশখালীর ৬৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও এবার চাষের পরিধি কিছুটা কমেছে। তবে ফলের মান ও ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কালিপুরের লিচু বাগান মালিক জসিম উদ্দিন জানান, বাজারে এখন লিচুর ভালো চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় এই জাতটি আকারে দিনাজপুরের লিচুর চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও এর মিষ্টি স্বাদ ও গন্ধে এটি চট্টগ্রামবাসীর কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। কালিপুরের স্থানীয় জাত ছাড়াও বর্তমানে বাঁশখালীতে রাজশাহীর বোম্বে, বারি-১, ২, ৩ ও ৪ এবং চায়না-৩ জাতের লিচুরও চাষ হচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, বাঁশখালীতে গত কয়েক বছর ধরে লিচুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার ফলে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ১০০ কোটি টাকার বেশি লিচু এবার বাজারজাত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।