হাটহাজারীতে প্রথম ‘রাইস গার্ডেন’ উন্নত ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ

Printed Edition

আবুল বাশার হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হয়েছে ‘রাইস গার্ডেন’। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং উন্নত ধানের জাত কৃষকদের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে এই প্রদর্শনী গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে বোরো মৌসুম উপযোগী প্রায় ৫৬টি ধানের জাত নিয়ে এ রাইস গার্ডেন তৈরি করা হয়েছে। একই মাঠে বিভিন্ন জাতের ধান পাশাপাশি রোপণ করায় কৃষকরা সহজেই গাছের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শীষের গঠন ও সম্ভাব্য ফলনের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।

এলএসটিডি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৫টি প্রযুক্তি গ্রামে এ ধরনের রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য কৃষকদের উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।

রাইস গার্ডেনে প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-১০৮ ও ১০২, স্বল্পমেয়াদি ব্রি ধান-৮৮, জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০, ডায়াবেটিক উপযোগী ব্রি ধান-১০৫ এবং ব্লাস্ট প্রতিরোধী ব্রি ধান-১১৪ সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাত।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতি দিনই অনেক কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তি রাইস গার্ডেন পরিদর্শন করছেন। কৃষক রফিকুল ইব্রাহিম বলেন, ‘এক সঙ্গে এতগুলো জাত দেখে বাস্তব ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উপযোগী জাত নির্বাচন করতে সহায়তা করবে।’

ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা: আমিনা খাতুন জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত ধানের জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারণ সহজ হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আয় বাড়বে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জাতের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাইস গার্ডেন মাঠ পর্যায়ে গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষিতে আরো আগ্রহী করে তুলবে।