‘বেকার ভাতা’ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রতিশ্রুতি
৬৫ ঊর্ধ্বদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে : ডা: শফিক
Printed Edition
কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও গাংনী প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ৫৪ বছরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশ তলিয়ে গেছে। অতীতের শাসকরা জনগণকে নিরাপত্তা দিতে এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে আইনের শাসন ও সামাজিক ইনসাফ কায়েম করা হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে। ইনশা আল্লাহ, জনপ্রতিনিধিরা আর শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। গতকাল কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম এবং মেহেরপুর-১ ও ২ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, পদ্মা, গড়াই, তিস্তাসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো গ্রীষ্মকালে মরুভূমিতে পরিণত হয়। গত ৫৪ বছরে নদী শাসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা কেবল লুটপাট হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনব। এ ছাড়া কুষ্টিয়া চিনিকল, মোহিনী মিল ও কুমারখালীর তাঁতশিল্পসহ বন্ধ সব কারখানা পুনরায় চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
যুবকদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেকারত্ব জাতির অভিশাপ। আমরা যুবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। চাকরির আবেদনের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।’ এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা, আরবি ও ইংরেজির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
নারীদের মর্যাদা ও সুরক্ষায় জামায়াত আমির বড় শহরগুলোতে মহিলাদের জন্য পৃথক ‘বাস সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘নারীরা ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা পাবে। নারী ও শিশুর প্রতি কোনো প্রকার সহিংসতা সহ্য করা হবে না।’
তিনি ঘোষণা দেন যে, সরকারি তহবিলের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ সদস্য - সবাইকে প্রতি বছর সম্পদের হিসাব দিতে হবে। চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা অতীতে চাঁদাবাজি করেছে, তারা তওবা করে টাকা ফেরত দিলে সুযোগ দেয়া হবে, নতুবা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
কুষ্টিয়ার কৃতী সন্তান শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ও হাদিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লাসহ জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি।’
কুষ্টিয়ার জনসভায় মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে এবং মেহেরপুরে জেলা আমির মাওলানা তাজ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এ সব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের বিভিন্ন আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। সমাবেশে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ দিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের অবর্ণনীয় ত্যাগের বর্ণনা করে তিনি বলেন, মায়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তিনি বলেন, অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই আমরা।
তিনি আরো বলেন, আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই। দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের লজ্জা করে না। দুর্নীতি ছেড়ে দাও, নইলে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করো। চাঁদাবাজির থেকে ভিক্ষা করা সম্মানের ।
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের দাঁড়িপাল্লায় প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো: আবু বকরের সভাপতিত্বে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।
জামায়াত আমির বক্তৃতা শেষে জেলার চার সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঝিনাইদহ-১ আসনের (শৈলকুপা উপজেলা) এ এস এম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ড) আসনের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) আসনের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের চারটি ইউনিয়ন) আসনের মাওলানা আবু তালিবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।