কূটনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত
ইইউর সাথে ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পরিবর্তনশীল কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাংলাদেশ একটি ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে চায়।
গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ-ইইউ পঞ্চম কূটনৈতিক সংলাপে সরকার এ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাঁচ বছরের বিরতির পর আয়োজিত এই সংলাপ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সার্বিক পরিধি পর্যালোচনার সুযোগ দিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক কার্জওয়েলের যৌথ সভাপতিত্বে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংলাপে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে আরো সম্পৃক্ততার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে সম্প্রতি ব্রাসেলসে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়। নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক কাঠামো প্রদান করবে বলে আশা করা হয়।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে এরিক কার্জওয়েল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার বিষয়টি ইইউ স্বীকার করেছে। বাংলাদেশের জনগণের বিপুল ভোটে গঠিত নতুন সরকারের অধীনে ইইউ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটি ইইউ-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংলাপে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উভয় পক্ষ গণতান্ত্রিক শাসন, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
সংলাপে বাংলাদেশ ইইউর সাথে বাণিজ্য সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির মতো সম্ভাব্য উপকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ ‘হরাইজন ইউরোপ’-এ বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উভয় পক্ষ অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ শ্রম সংস্কারে অর্জিত অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরেছে এবং মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবেলায় যৌথ সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ একই সাথে জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতা প্রচেষ্টার জন্য সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে, যার মধ্যে ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ের মতো উদ্যোগও রয়েছে।
সংলাপে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। উভয়ে বহুপাক্ষিকতা এবং একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আরো শক্তিশালী ও টেকসই আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর বাংলাদেশ জোর দিয়েছে।
সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ও ইইউ নিয়মিত সংলাপ অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।