৪১ জেলায় এইচআইভি পরীক্ষার সুযোগ নেই

Printed Edition
back-4
এইচআইভি বিষয়ক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৪১টি জেলায় এখনো এইচআইভি/এইডস পরীক্ষার সুযোগ নেই। ফলে বহু মানুষ রোগ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট সংক্রমিতদের প্রায় ১৮ শতাংশ এখনো শনাক্ত হয়নি। অপরদিকে শনাক্তদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশে বিশেষ করে পুরুষ সমকামী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটি এখন রোগ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বিএমএ ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) সহযোগিতায় এই কর্মশালা আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টাস ফোরাম ( বিএইচআরএফ)।

কর্মশালায় বলা হয়, ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ১০, ২০, ১০০ বা ২০০ করে নতুন রোগী প্রতিবছর শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে নতুন রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৯১ জনে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটের বাসিন্দা। এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক রোগী মারা যায় ২০০০ সালে। ২০২৫ সালে একই রোগে মৃতের সংখ্যা ২৫৪। যা আগের বছরে থেকে কিছু কম। কর্মশালায় বলা হয়, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, চিকিৎসা সহজলভ্য করা জরুরি। বিদেশফেরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি করা হয়।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ। বিশেষ অতিথি ও মুল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েরর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা: সাইফ উল্লাহ মুন্সী। সভাপতিত্ব করেন বিএইচআরএফের সভাপতি প্রতীক ইজাজ। বাংলাদেশের এইডস পরিস্থিতি, সঙ্কট ও উত্তরণ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএইচএফের কান্ট্রি ডিরেক্টর আকতার জাহান শিল্পী। এ ছাড়া এইডস রিপোর্টিং, চ্যালেজ্ঞ ও সমাধান নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কালবেলার স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ রাব্বি। আকতার জাহান শিল্পী জানান, দেশে অনুমিত এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি ১৭ হাজার ৪৮০। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ জন। সংক্রমণের হার .০১ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে আট হাজার ৫৭৫ চিকিৎসার আওতায় এসেছেন, যা মোট শনাক্তের ৭৪ শতাংশ।

আক্রান্তদের ৩৪ শতাংশ পুরুষ সমকামী ও ১৪ শতাংশ পুরুষ যৌনকর্মী। এ ছাড়া প্রবাসী ১২ শতাংশ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি ১১ শতাংশ, শিরায় মাদকগ্রহণকারী ৬ শতাংশ, নারী যৌনকর্মী ও হিজড়া ১ শতাংশ করে। এ ছাড়া ২২ শতাংশ অন্যান্য মানুষ। আকতার জাহান আক্রান্তদের বয়স ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৬২.৬১ শতাংশ ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২১.০৫ শতাংশ। ১০-১৪ বছর বয়সী ০.৬৯ শতাংশ। পাঁচ বছরের কম বয়সে আক্রান্ত ১. ৯৬ শতাংশ।