১৫ বছর ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পেশাদারদের কেবল দক্ষতাই নয়, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকতে হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ১৫ বছর ধরে আমাদের দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাচার করা হয়েছে। বেশির ভাগই প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক ডাকাতি করা হয়েছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অ্যাকাউন্টিংয়ে ম্যানিপুলেশনের ফলাফল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে তিনি দেশের শীর্ষ হিসাবরক্ষকদের সহযোগিতা চান।

গতকাল রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (সাফা) আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইনস্টিটিউট অব চার্টাড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) সম্মেলনটি আয়োজন করে।

উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিবেশী, জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে সমর্থন করে। আমরা সংলাপ, আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ ও অভিন্ন উদ্বেগের সহযোগিতামূলক সমাধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। এই সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়া এবং এর বাইরেও বিশেষজ্ঞ, অনুশীলনকারী এবং চিন্তাবিদদের একত্রিত করেছে দেখে আমি উৎসাহ বোধ করছি। আপনাদের আলোচনা এবং অন্তর্দৃষ্টি নিঃসন্দেহে পরবর্তী প্রজন্মের পেশাদারদের জন্য সততা, দায়বদ্ধতা এবং উদ্ভাবনের ওপর সমান জোর দেয়ার পথ দেখাবে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা গতিশীল প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে বাস করছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন আমার পেশাসহ বিশ্বজুড়ে নানা পেশাকে রূপান্তরিত করছে। বিশ্বসম্প্রদায় ব্যবসা ও প্রশাসনে স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক অনুশীলনের ওপর ক্রমবর্ধমান জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি ও টেকসই ক্ষমতার সমন্বয় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গভীর বৈশ্বিক সংহতির জন্য আমাদের পেশাদারদের কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নয়, নৈতিক ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সম্মেলনের মতো মঞ্চ জ্ঞানের আদান-প্রদান, সেরা পন্থা ও পদ্ধতিগুলো ভাগ করে নেয়া এবং অর্থবহ সহযোগিতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের কর্মসূচি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক উভয় সম্প্রদায়কে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে চালিত করতে সহায়তা করতে পারে।