রিয়ার হ্যাটট্রিকে ফাইনালে বাংলাদেশ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। প্রথমবারই বাজিমাত অর্পিতা পালদের। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বাংলাদেশের মেয়েদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মূল পর্বের টিকিট কাটা আইরিন-কনাদের স্বপ্ন আরো উঁচুতে। আইরিনের হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে সিঙ্গাপুরকে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠে গেল লাল-সবুজের নারী হকিদল। আর মাত্র একটি ম্যাচ-অপেক্ষা শুধু শিরোপায় চুমু দেয়ার। আজ ফাইনালে প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে। গতকাল অপর সেমিতে চাইনিজ তাইপে ৩-২ গোলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
হকিতে সবই সম্ভব। শেষ কয়েক মিনিট তো দূরের কথা, ৩০ সেকেন্ডেই ঘটে যেতে পারে অনেক কিছু। গতকাল ইন্দোনেশিয়ার জেবিকে মাঠে ঘটল তেমনই ঘটনা। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন মিনিট বাকি থাকতে স্কোরলাইন ১-১। ঠিক তখনই যেন ম্যাজিক নিয়ে হাজির বাংলাদেশের আইরিন আক্তার। ৫৭ ও ৫৮ মিনিটে দুই গোল করে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে। ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছে ৩-১ গোলে। তিনটি গোলই করেন হ্যাটট্রিক কন্যা আইরিন।
প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। গত রোববার হংকং চায়নাকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস হকিতে খেলা নিশ্চিত করে তারা। গতকাল পেল ফাইনালের টিকিটও।
বাংলাদেশ নারী হকি দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ছেলেদের দল এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত চারবার ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুবার। এবার মেয়েদের ঝলক দেখার অপেক্ষায়।
জাকার্তার জিবিকে হকি মাঠে প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে সিঙ্গাপুর। যদিও বিশ্ব হকির র্যাংকিংয়ে ৩৬ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে দশম মিনিটেই আইরিন আক্তারের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এর দুই মিনিট পরই পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে সমতায় ফেরান সিঙ্গাপুরের চিয়া চেরি। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নাদিরা গোল করতে না পারলেও দমে যায়নি জাহিদ হোসেন রাজুর শিষ্যরা। তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের আক্রমণগুলো সিঙ্গাপুরের রক্ষণেই ঘুরপাক খেয়েছে। ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার পেলেও অধিনায়ক অর্পিতা পাল গোল করতে পারেননি। ৪৫ মিনিটে শারিকার দারুণ হিট থামিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার ইলিয়া। এই প্রথম এতগুলো পেনাল্টি কর্নার মিস করে অর্পিতা বাহিনী। চতুর্থ কোয়ার্টারে চারবার এশিয়ান গেমস খেলা সিঙ্গাপুরকে চেপে ধরে অর্পিতারা। শেষ কোয়ার্টারেও দুটি পিসি মিস করে হকির বাঘিনীরা। অবশেষে ৫৭ মিনিটে কনা আক্তারের পাস থেকে ফিল্ড গোল করেন আইরিন। এক মিনিট পর আইরিন নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৭। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে দলটি চায়নিজ তাইপের সাথে ৫-৫ গোলে ড্র করে। উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে এবং সর্বশেষ হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়। অথচ আর্থিক সঙ্কটের কারণে জাকার্তায় এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে যাওয়াটাই ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি মেয়েরা। বিকেএসপিতে যতটুকু পেরেছে অনুশীলন করেছে। এমন সঙ্কটের মধ্যেও বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন অর্পিতারা।
বাহফে সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব:) বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করাটা ফেডারেশনের জন্য দেশের জন্য বড় পাওয়া। আর্থিক সমস্যার কারণে এই দলটাকে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠাতে পারব কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। পরে সভাপতি উদ্যোগ নিয়ে টাকার যে সঙ্কট ছিল, তা পূরণ করে দেন। যার জন্য দলটা সুন্দরভাবে ইন্দোনেশিয়ায় যেতে পেরেছে। না যেতে পারলে শুধু মেয়েদের মনই ভাঙত না। আমরাও বুঝতাম না আমাদের দলের উন্নতি সম্পর্কে। অপরাধী হয়ে থাকতাম। প্রমাণ করেছে যে তারা ভালো মানের দল। যদি এই দলটিকে সঠিক নার্সিং করা হয় তাহলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে ভালো একটা নারী টিম গঠিত হবে। সেপ্টেম্বরে জাপানে হবে এশিয়ান গেমস। মূল পর্বের আগে বিদেশে চার থেকে পাঁচটা টিমের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা বিদেশী দলকে দেশে এনে খেলাতে হবে।’