‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর চাঁদাবাজি ও দখল কমেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাল নোট ঠেকাতে নতুন আইন করা হবে : অর্থমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ফলে এসব অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব তথ্য জানান তিনি।
রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বর্তমান সরকার এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এসব অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের লিখিত চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সামগ্রিক নিরাপত্তা এরই মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা সেবা আরো উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
জাল নোট রোধে নতুন আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে জাল নোটের প্রচলন কার্যকরভাবে রোধে শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি আশা করেন যে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাল নোটের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জাল নোটের প্রচলন রোধে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি বা প্রকৃত মুদ্রার অনুকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইনটি কার্যকর হলে জাল নোটের প্রচলন নিয়ন্ত্রণে এবং শেষ পর্যন্ত নির্মূলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
চাঁদপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো: জালাল উদ্দিন কর্তৃক বিধি ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই নোটিশে নতুন ব্যাংক নোট এবং জাল নোট সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সাথে পরামর্শ করে যেকোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নতুন সিরিজের ব্যাংক নোট এরই মধ্যে চালু হয়েছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকর্মের অনুপ্রেরণায় ডিজাইন করা হয়েছে। এসব ডিজাইন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রস্তুত করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে।
নতুন নোটগুলোতে পূর্বের তুলনায় উন্নত ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি জনগণকে এসব পরিবর্তন সম্পর্কে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। মুদ্রা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অচল নোট প্রত্যাহারের হার বিবেচনায় নিয়ে নোট ছাপানো হয়ে থাকে। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুদ্রার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার আইনগত, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক সব ধরনের ব্যবস্থা আরো জোরদার করবে।