আপিলে যাবে না নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবে ইসি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণসংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাসুদ গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিপরীতে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাসুদ জানান, আদালতের নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেলেই সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বাতিল করেছিল ইসি। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন এই নেত্রী।
রিটের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। কমিশনের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, এ আদেশের ফলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ প্রশস্ত হলো।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে।
আইভীর জামিন বহাল থাকবে কি না, জানা যাবে ৩ মে
এদিকে হত্যার অভিযোগে চারটিসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, তা আগামী ৩ মে জানা যেতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। শুনানি নিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল আদেশের এ দিন ধার্য করেন।
ওই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হচ্ছে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা। এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীর জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আইভীকে হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেন। একই সাথে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার শুনানি করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাথে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন (সাজু) ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দু’টি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রথম পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর আইভীকে আরো দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা দু’টি (হত্যার অভিযোগ) মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। একটিতে ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।