মাশরাফি যুগে যেতে চায় বাংলাদেশ

Printed Edition
Sports---------3
মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সময় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ সংস্করণে বাংলাদেশ যে ভালো ছিল, তা আনায়াসেই বলা যেত। মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা বাংলাদেশকে জয়ের অনেক উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন। তবে সেগুলো এখন কেবল অতীত। এক সময়ের ‘প্রিয় সংস্করণে’ বাংলাদেশ রীতিমতো হাবুডুবু খাচ্ছে।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই ৫০ ওভারের সংস্করণে টাইগারদের ভরাডুবি হতে থাকে। সেবার ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২ ম্যাচ জিতে কোনোরকমে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের ফিরতে হয় শূন্য হাতে। তা ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও অবস্থা নাজুক। ২০২৪-২৫ সালে ছয় ওয়ানডে সিরিজ খেলে জিতেছে দু’টি। আর বর্তমানে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে রয়েছে দলটি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে ৯ নম্বরে থাকতে হবে। যেখানে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষেও খেলতে হবে বাংলাদেশকে।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরে তামিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। সাকিব ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে খেলতে পারছেন না বাংলাদেশ দলে। মুশফিক বিদায় বলেছেন ওয়ানডে থেকে। শান্তর পরিবর্তে মিরাজের কাঁধে নেতৃত্বভার তুলে দেয়া হলেও দলের আহামরি কোনো পরিবর্তন হয়নি। উপরন্তু গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধবলধোলাই হয়ে একের পর এক বাজে রেকর্ডে নাম উঠেছে বাংলাদেশের।

মিরপুরে আগামিকাল শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা ছাপিয়ে এই সংস্করণে হারানো গৌরব ফিরে পেতে চান তিনি। সিমন্সের কথায়, ‘আমরা শুধুই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না। ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো করতে চাই। কয়েক বছর আগে আমরা যেখানে ছিলাম। বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দারুণ খেলেছিল। সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিল। ছেলেদের নিয়ে কাজ করছি এবং আমাদের যে প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে, তাদের নিয়ে কাজ করে আগের অবস্থায় ফিরতে চাই।’

২০০১-২০২০ সাল পর্যন্ত মাশরাফি ২২০ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩২.৯৪ গড়ে ২৭০টি উইকেট শিকার করেছেন, যা বাংলাদেশের পক্ষে অন্যতম সেরা রেকর্ড। টি-২০ ক্যারিয়ারে ২০০৬-২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫৪টি টি-২০ ম্যাচে ৩৬.৩৬ গড়ে ৪২টি উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক, যার হাত ধরে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল ও ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল টাইগাররা। ক্যারিয়ারজুড়ে ৩৯০ আন্তর্জাতিক উইকেট আছে তার। ৮৮ ম্যাচে অধিনায়ক ছিলেন, যেখানে জয় ৫০টি, হার ৩৬, দু’টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। মাশরাফি শুধু একজন বোলার নন, বরং দল পরিচালনায় তার অসামান্য দক্ষতা এবং ইনজুরির সাথে লড়াই করে বারবার ফিরে আসার জন্য তিনি ক্রিকেট বিশ্বে আইকন হিসেবে পরিচিত।

সিমন্সের কথায়, ‘এটি শুধু একক কৃতিত্ব নয়, বাংলাদেশের কৃতিত্ব, সহযোদ্ধাদের কৃতিত্ব, অনুজদের পথিকৃত। একটা অহংকারের জায়গা, যেটি আমরা ফের দেখতে পারি-দেখাতে পারি, পথচলা নতুন করে শুরু হোক এখন থেকেই।’