সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ জামায়াতের
নারীর প্রতি নিজেদের সহিংসতা ধামাচাপা দিতে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি দল নিজেদের নারীর প্রতি সহিসংতার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে। অচিরেই তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। জাতিকে সাথে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়া হবে। গতকাল রাজধানীর মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, সম্প্র্র্রতি একটি দলের পক্ষ থেকে নারীদের ওপর ক্রমাগত হামলা হচ্ছে, সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে, হিজাব খুলে নেয়া হচ্ছে, জামা খুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে, নারীদের নিয়ে চরম আপত্তিকর কথা বলছে। এ অবস্থায় আমরা সব সময় নারীদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা রেখে কথা বলে আসছি। আমাদের নারীরা আদবের সাথে, সব আচারণবিধি মেনে কাজ করছেন। এরপরও তাদের ওপর একের পর এক হামলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি একজন শীর্ষ নেতা বোরখা নিয়ে কমেন্ট করেছেন, নির্বাচনের দিন হিজাব খুলে দেখতে হবে। এর মাধ্যমে নারীদের তারা ভীতিকর মেসেজ দিচ্ছেন। জামায়াতের প্রতি নারীদের যে বিপুল সমর্থন আমরা দেখছি। আমাদের জনসভায় নারীদের উপস্থিতি দেখে তাদের মাথায় বড় ধরনের কোনো চাপ হয়েছে, যার কারণে তারা নারীদের সাথে এ ধরনের আচরণ করছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে- তারপরও তাদের বোধোদয় হচ্ছে না।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, এ প্রেক্ষাপটে এসে আমিরে জামায়াতের টুইটার (এক্স) একাউন্ট হ্যাক করে সেখানে নারীদের প্রতি অশালীন শব্দ প্রয়োগ করার মতো একটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করা হয়েছে। এটি মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস ছাড়া কিছুই নয়। আর এটি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে। এ ধরনের একটি সুরক্ষিত জায়গা থেকে যদি এ ধরনের সাইবার আক্রমণ করা হয়, তাহলে জাতির নিরাপত্তা কোথায়। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বড় দলের শীর্ষ নেতারাও এমনভাবে কথা বলছেন যা দেশবাসী প্রত্যাশা করে না। আশা করি আমরা নারীদের ব্যাপারে সম্মান ও মর্যাদা রেখে কথা বলবো। আর আমাদের ব্যাপারে যারা মিথ্যা ও অন্যায় অভিযোগ করছেন দেশবাসীকে সাথে নিয়ে তাদের মোকাবিলা করবো।
তিনি আরো বলেন, একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের জন্য পুরো জাতি উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা নির্বাচনী আচারণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছি। সবার কাছেই আমরা এটি প্রত্যাশা করি। কোনো উসকানি যেন জাতিকে বিভ্রান্ত না করে। কোনো অবস্থাতেই এমন আচারণ কেউ না করেন যাতে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, একদল লোক তাদের আচারণের মাধ্যমে, নারীদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে, উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে, সাইবার অ্যাটাকের মাধ্যমে তারা এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে ঠেলে দেয়ার একটি হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, আমরা দেশের মানুষকে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের সেটিই শিখিয়েছে যে ফ্যাসিবাদ এবং তার দোসররা এ দেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে, আমাগীর বাংলাদেশ, আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে তার উপর অনেক বড় দায়িত্ব। অনেক চ্যালেঞ্জ তাকে মোকাবিলা করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে সেই বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাব। এবং সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদেরকে একটি সুষ্ঠু সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বিচক্ষণতার সাথে, দায়িত্বশীলতার সাথে ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা সেই প্রত্যাশা করছি।
শেরপুরে জামায়াত নেতার খুনের মামলায় আসামির জামিন প্রসঙ্গে এ জামায়াত নেতা বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরে প্রিসাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে আমাদের লোকজন যোগদান করেছিলেন। সে অনুষ্ঠানে বিএনপির সেই এলাকার সংসদ সদস্যপ্রার্থীর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় শ্রীবর্দী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনার পর আমরা মামলা দিয়েছিলাম। এবং ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার এক সপ্তাহ শেষ হয়নি, রক্তের দাগ শুকায়নি। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করে মামলা দেয়া হয়েছে, যা তদন্তাধীন। কিন্তু আমরা আশ্চর্য হলাম যে সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা উচ্চ আদালতে এসে জামিন নিয়েছেন। এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেটি প্রকাশ্য দিবালোকে হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই চিহ্নিত সেই সমস্ত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা বরং তাদের জামিন দিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যেখানে হত্যাকাণ্ডের রক্তের দাগ এখনো শুকিয়ে যায়নি সেখানে খুনি ও সন্ত্রাসীরা এইভাবে পার পেয়ে যাবে!
তিনি বলেন, এলাকাবাসী তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়ে কষ্ট ও বেদনার ভেতরে তারা আছেন। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের জামিন দেয়ার মাধ্যমে আমরা মনে করি আইনের শাসন বাদ দিয়ে অনুকম্পা দেখানো হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে বলেছি- যাতে উচ্চ আদালত এই জামিন স্থগিত করেন।
তিনি আরো বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলা ও শাহাদাতের পর থেকে এটি ছিল নিষ্ঠুর ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। খুব নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আরো অনেকে আহত হয়েছে। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য এ সমস্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয় স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। জাতির কাছে আমরা বিচার দিচ্ছি যে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত। দোষীদের আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা। অন্যথায় দেশবাসীর কাছে, জনগণের কাছে এটি প্রমাণিত হবে- খুন করেও পার পাওয়া যায়। ফ্যাসিবাদের সময় এগুলো হয়েছে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার এ কাজগুলো করেছে- যার ফলশ্রুতিতে জনমনে মারাত্মক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এবং গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা অবিলম্বে শহীদ রেজাউল করিমের খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায়ে এনে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তাদের যথাযথ শাস্তি দেয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি বিবেচনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।