উন্নয়নের আড়ালে শিক্ষক সঙ্কটে ধুঁকছে বিএম কলেজ

Printed Edition

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল নগরীর শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর এই প্রতিষ্ঠানে একদিকে চলছে প্রায় ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা। অন্য দিকে শিক্ষক স্বল্পতা ও পরিবহন সঙ্কট শিক্ষার স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দাবি, সঙ্কটগুলো দ্রুত সমাধান করা না গেলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় ১০ তলা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, ১০ তলা হোস্টেল ভবন, আধুনিক মিলনায়তন, নতুন গেট এবং ড্রেনেজ ও রাস্তা নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরই মধ্যে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হল, ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হল, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস ও জীবনানন্দ দাস হল সংস্কারের জন্য ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা চললেও একাডেমিক সঙ্কট এখনো প্রকট।

বর্তমানে ২২টি বিভাগ ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিশাল এই ছাত্রগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র ১৭২ জন। অনেক বিভাগে যেখানে ১৫-২০ জন শিক্ষক প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ৪-৮ জন দিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সিলেবাস শেষ করতে বিলম্ব ও পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিবহন সঙ্কট শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ। এত বড় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মাত্র চারটি বাস রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা। দীর্ঘ ৩২ বছরেও সরকার বা রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কলেজটি কোনো বাস পায়নি। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মিম আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু শিক্ষক ও পরিবহন সঙ্কট না কমলে আমরা কাক্সিক্ষত সুবিধা পাব না। অপর শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ জানান, বাসের সঙ্কটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস মিস হয়ে যায়।

সঙ্কট নিরসনে কলেজ প্রশাসন আরো দু’টি বাস কেনার উদ্যোগ নিলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ বিষয়ে সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলার অক্সফোর্ড’ খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।

৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই কলেজে আরো বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রয়োজন। এখনো শিক্ষক ও পরিবহন সঙ্কট প্রকট আকারে রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। আমরা সব বিষয় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।