এবার লুটেরা, চাঁদাবাজ ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার নির্বাচন : নাহিদ

Printed Edition
back-2
রাজধানীতে নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত-এনসিপির মনোনীত ১০ দলীয় জোটপ্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এবারের নির্বাচন ভূমিদস্যুদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন লুটেরা ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিকে, প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাটারার বাঁশতলায় নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিলের আগে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা-১১ আসনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কেবল ঢাকা-১১ আসনেই দাঁড়িয়ে নেই; আমরা দাঁড়িয়ে আছি সমগ্র বাংলাদেশে। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

গণমিছিলে নাহিদ ইসলামকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমানসহ তার দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নাহিদ ইসলাম তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আতিকুর রহমানের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এই ঢাকা-১১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পক্ষে কাজ করে গেছেন। জনগণের সাথে মিশে গেছেন। আতিকুর রহমান যে ইনসাফের, দুর্নীতিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা-১১ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই একই প্রতিশ্রুতিকে বহাল রেখে আমি ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছি। আমরা একত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

নাহিদ আরো বলেন, দেশের প্রতিটি আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে যেসব প্রার্থী রয়েছেন, সবাই মিলে তাদের বিজয়ী করে সংসদে পাঠাতে হবে। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এবারের নির্বাচনে মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেও দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর, ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে- এটি নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা গণ-অভ্যুত্থান করেছি- হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ভাটারা ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল। আমরা গণ-অভ্যুত্থান করেছিলাম কেবল একটি সরকার বদলের জন্য নয়।’ তিনি বলেন, এক হাসিনা চলে যাবে নতুন হাসিনা তৈরি হবে- এর জন্য আমরা কেউ রক্ত দেইনি। এক লুটেরা গ্রুপ চলে যাবে, আরেক লুটেরা সংসদে যাবে- এর জন্য বাংলাদেশের মানুষ জীবন দেয়নি। নাহিদ বলেন, ‘আমরা জীবন দিয়েছিলাম বাংলাদেশের সংস্কার, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের অধিকার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, দেশের সার্বভৌমত্ব কায়েম এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা থেকে। সেই আকাক্সক্ষাকে ধারণ করেই এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এবারের নির্বাচন ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের নির্বাচন, দেশ সংস্কারের নির্বাচন।’

জনজোয়ার দেখে একটি দল ভয় পেয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা বাংলাদেশের ছাত্র, জনতা, শ্রমিক ও মহিলা যেভাবে আমাদের পক্ষে রাস্তায় নেমেছেন, সেই জনজোয়ারকে ভয় পেয়ে একটি দল এখন নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা ছড়াচ্ছে। নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে, ভয়ের পরিবেশ ও আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

রামপুরা, ভাটারা ও বাড্ডাবাসীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকায় আমার জন্ম। এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। ঢাকা-১১ এর বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরার মানুষ এখনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম, গ্যাসসঙ্কট, বিদ্যুৎসঙ্কট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দীর্ঘদিনের সমস্যা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করব, সমাধান করব। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করব।

সমাবেশ শেষে একটি নির্বাচনী র‌্যালি নিয়ে বাঁশতলা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে অগ্রসর হন নাহিদ ইসলাম ও তার সমর্থকরা। পরে রামপুরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তারা।

ঢাকা-১৮ আসনে চাঁদাবাজি রুখতে ব্যবসায়ীদের পাশে আছি : আরিফুল

বৃহত্তর উত্তরায় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি রুখে দিতে ব্যবসায়ী সমাজের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে ১০ দলীয় জোটপ্রার্থী এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদিব। গতকাল নির্বাচনী প্রচারণার ২য় দিন উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে এক পথসভায় তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে তরুণ প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে (ঢাকা-১৮ আসন) ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সেই ব্যবসায়ী ভাইদের বলতে চাই- নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের পাশে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে। আমরা সকল প্রকার জোর-জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইনসাফের ঢাকা-১৮ আসন গড়ব ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা জনগণের প্রতিটি ভোট হিসাব করে সংরক্ষণ করব। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ রায় প্রকাশ করবে। কেউ যদি জনগণের শান্তিপূর্ণ ভোটে বাধা দেয়, তা হলে আমরা জীবন দিয়ে হলেও জনগণের ভোট রক্ষা করব।

উত্তরায় বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিনেও উদ্যোগ নেয়া হয়নি জানিয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, এই বৃহত্তর উত্তরায় আমরা দেখতে পাই তীব্র যানজটের সমস্যা। উত্তরার অধিকাংশ এলাকা প্রায় ১০ বছর ধরে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনো এর অনেক জায়গা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা পুরো ঢাকা-১৮ আসনকে এই অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত করব।

অন্য দিকে গতকাল ১০ দলীয় জোটপ্রার্থীর সমর্থনে উত্তরার একাধিক স্থানে গণসংযোগ চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। দুপুরে জুমার নামাজের পর উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় শাপলা কলি প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেছেন প্রার্থী আরিফুল ইসলাম।