অবৈধ অভিবাসী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে মামলা

আবু সাবেত, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
Printed Edition

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও কর্মস্থলে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত দুইটি অভিযোগে দক্ষিণ টেক্সাসের বেকারি মালিক দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তিন দিনের বিচার শেষে বুধবার একটি জুরি বেকারি মালিক দম্পতি লিওনার্দো বায়েজ-লারা ও এলিসিয়া আভিলা-গুয়েলকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

অভিযুক্ত বায়েজ-লারার আইনজীবী সার্জিও লুইস ভিলাররিয়াল বৃহস্পতিবার নিউজউইককে বলেন, রায়ে আমরা হতাশ ও মর্মাহত। এরপর কী ঘটতে পারে তা ভাবতেও ভয় লাগে।

ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসী নিয়োগের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেছে এবং এ বছরের শুরুর দিকে এ মামলায় ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে।

জুরির এই রায় এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে, যেখানে প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণ-নির্বাসন অভিযান শুরু করার অঙ্গীকার করেছেন। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল বৈধ নথি ছাড়া বা অপরাধমূলক অতীতসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের গ্রেফতার করা; তবে যারা অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করছে তারাও এই অভিযানের আওতায় এসেছে।

এই দম্পতি প্রথম দিকের সেই কয়েকজনের মধ্যে, যাদের নিজেদের আইনি অবস্থার জন্য নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এখন তারা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি।

৫৬ বছর বয়সী বায়েজ-লারা ও ৪৬ বছর বয়সী আভিলা-গুয়েল দুজনই লস ফ্রেসনোস, টেক্সাসে বসবাসকারী বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের এই শহরে তারা ২০১২ সাল থেকে ‘অ্যাবিস বেকারি ও ‘ডুলসেস ক্যাফে’ পরিচালনা করছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) ১২ ফেব্রুয়ারি লস ফ্রেসনোসে অ্যাবিস বেকারিতে একটি ‘ওয়ার্কসাইট এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন’ চালায়। সেখানে কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা বি১/বি২ ভিসায় থেকে কাজ করার অনুমতি ছাড়াই কাজ করছিলেন বলে টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্র অ্যাটর্নি অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

বুধবার ব্রাউনসভিলে তিন দিনের বিচার শেষে জুরি তাদের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচার চলাকালে এক কর্মীর সাক্ষ্যে জানা যায়, ‘তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার পর বেকার হিসেবে তার দক্ষতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার নেয়া হয় এবং সাথে সাথে তাকে চাকরি ও থাকার জায়গা দেয়া হয়।’

প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মালিকরা কর্মীদের ‘আশ্রয় দেননি’ বরং কেবল থাকার জায়গা দিয়েছেন।

ভিলাররিয়াল নিউজউইককে বলেন, ‘মূলত, সরকার ‘আশ্রয় দেওয়া’ শব্দটির ব্যবহারের পরিসর বাড়াচ্ছে। এটি আমাদের কমিউনিটিতে একটি উদাহরণ স্থাপন করছে যে আপনার কাছের কারো সাথে সবচেয়ে নির্দোষ সম্পর্কও আপনাকে গুরুতর আইনি ঝামেলায় ফেলতে পারে।’