মাঝখানে মা, দুই পাশে বাবা ও সন্তান চিরনিদ্রায় একই পরিবারের ৩ প্রাণ
উত্তরা ট্র্যাজেডি
Printed Edition
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
রাজধানীর উত্তরার সেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল কুমিল্লার এক সুখী পরিবারের স্বপ্ন। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারানো কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছরের একমাত্র সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশানকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে তিনজনের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
শনিবার সকালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর গ্রামবাসীদের চোখের জলে ভারী হয়ে ওঠে চিওড়া কাজী বাড়ির আকাশ। মা সুবর্ণার কবরের দুই পাশে স্বামী ও সন্তানের লাশ রেখে যখন দাফন সম্পন্ন করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত শত শত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। কর্মজীবী এই দম্পতি তাদের দুই ছেলেকে উত্তরার নানীর বাসায় রাখতেন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় আগের রাতেই ছোট ছেলে রিশানকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু শুক্রবার ভোরের আগুন তাদের সব শেষ করে দিলো।
নিহত আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আগুনের শিখায় পুড়বে না বরং বিষাক্ত ধোঁয়ায় তারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। ফুফাতো ভাই কাজী শহীদ বলেন, ‘মাত্র দুই মাস আগেই পুরো পরিবার নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন রাব্বি। কে জানত, পরের বার তাদের লাশের গাড়ি বাড়িতে আসবে।’
ঢাকায় প্রথম নামাজে জানাজা শেষে শুক্রবার রাতেই লাশগুলো কুমিল্লা শহরের বাসায় নিয়ে আসা হয়।
রাত ১০টায় কুমিল্লা দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার সকালে পৈতৃক ভিটা চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।
একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় পরিবারের এমন করুণ প্রস্থানে পুরো চৌদ্দগ্রাম এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।