ডুমুরিয়ায় গোলাম পরওয়ার
রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকে রাজাকার বা জঙ্গি আখ্যা জনগণ গ্রহণ করছে না
Printed Edition
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৯১ ও ২০০০ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াত একসাথে কাজ করার সময় যুদ্ধাপরাধ-জঙ্গি এসব অভিযোগ তোলা হয়নি। রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকে রাজাকার বা জঙ্গি আখ্যা দেয়ার সংস্কৃতি জনগণ আর গ্রহণ করছে না। সাথে থাকলে সঙ্গী, আর না থাকলে জঙ্গি- এই দ্বিচারিতা মানুষ বুঝে গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান খুলনার জনসভায় জামায়াতের আমিরকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, লন্ডন থেকে এসে উনি কে কাফের, কে মুনাফেক এই ফতোয়া দিচ্ছেন। এর আগেও আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ বিভিন্ন আলেমকে একইভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ডাকা হয়। এতেই প্রমাণিত হয় কারা এ হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত।
এ সময় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আগামীতে কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে ছাত্রসমাজ তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমরা সজাগ আছি, প্রস্তুত আছি। আমার ভোটাধিকার আমি নিয়ে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, খেলাফত মজলিস খুলনা জেলা সহসভাপতি মুফতি আবদুল কাইয়ুম জমাদ্দার, জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা ও হাফেজ আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ ফকির, সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান, চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাফেজ সাইদুল ইসলাম, ড. একরাম উদ্দিন সুমন, রাবির হাবিবুর রহমান হলের ভিপি আহমেদ আতাউল্লাহ ফারহান, ঢাবি ছাত্রশিবির নেতা আহমদ আতাউল্লাহ সালমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা: হরিদাস মণ্ডল, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মণ্ডল, মাওলানা হাবিবুর রহমান, খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আবু সাঈদ মাহমুদ, শ্রমিক নেতা মাওলানা সাইদুল্লাহ, শেখ মোসলেম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হালিম, শেখ আবুল হোসেন, মাওলানা মতিয়ার রহমান, হাফেজ মইন উদ্দিন, সামিদুল হাসান লিমন প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নামে মিথ্যা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করছে। এ ধরনের উসকানি শেষ পর্যন্ত যারা করছে, তাদেরই ক্ষতি ডেকে আনবে।
বিএনপি বন্ধুদের মাথাটা একটু খারাপ হয়ে গেছে। আপনারা টের পাচ্ছেন তো? এত মাথা খারাপ হয়েছে! জামায়াত ইসলামীর পুরুষদের সামনে দাঁড়াবার সাহস তাদের নেই। এখন আমাদের নারীকর্মীদের গায়ে তারা হাত তুলছে। দেখছেন তো, অন্তত ১০-১৫ জায়গায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে আমাদের মা-বোনেরা যখন যাচ্ছে, তাদের মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে। বোরকা খুলে নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখবেন, যেটা বেশি ভাইরাল হয়েছে, একজন সাদা বোরকা পরিহিত মা দাঁড়িপাল্লার জন্য ভোট চাচ্ছেন, তাকে টেনে ধরে তার হিজাব-বোরকাটা খুলে নেয়া হচ্ছে।
সে যখন বাধা দিচ্ছে, বিএনপির এক সন্ত্রাসী সেই মায়ের পেটে লাথি মেরেছে। বিএনপির একজন সোশ্যাল মিডিয়াতে বক্তব্য দিচ্ছে, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কোনো নারী ভোট চাইতে গেলে তাদের কাপড় খুলে রেখে দেবে।
শেরপুরের এক উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ রেজাউল করিমকে পিটিয়ে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের ব্যালট বিপ্লব শুরু হওয়ার আগে তোমরা যদি একটা দলের লোককে হত্যা করো, তাহলে তোমাদের পুরনো রূপ মানুষের কাছে উঠবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাদের জীবদ্দশায় এসব বিতর্ক ছিল না। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের জামায়াত এককভাবে ১৮টি আসন পেয়েছিল এবং তখন দুই বড় দলই জামায়াতের সমর্থন চেয়েছিল। তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। পুরনো বিতর্ক তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর নেই।