রমজান সামনে রেখে মধ্যস্বত্বভোগীরা সক্রিয়
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার খবরেই এক সপ্তাহে মণপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে সয়াবিন ও পামতেলের দাম
Printed Edition
নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো
আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার খবরেই দেশের বাজারে বেড়ে গেছে ভোজ্যতেলের দাম। তবে মিল মালিকরা বলছেন বিশ্ববাজারের বাড়তি দামের প্রভাব এখনো বাজারে আসেনি। তবুও অসাধু ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি প্রায় ৩৮ কেজি তিন শ’ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন সয়াবিন ও পামতেলের দাম।
আমাদের দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্যানুযায়ী এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত মিলে শুধুমাত্র পামতেল আমদানি হয়েছে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন। এর বাইরে সয়াবিনের বীজ আমদানি করে রিফাইনারিগুলোর সয়াবিন উৎপাদনতো আছেই। সূত্র মতে, সাধারণত রোজার মাসে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে। কিন্তু আমদানি হয়েছে এর চাইতে অনেক বেশি। গত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসেই প্রায় পৌনে চার লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে- তিনটি ট্যাংকার বোঝাই প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন তেল। কিন্তু তবুও বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান সামনে রেখে পর্যাপ্ত ভোজ্যতেল আমদানি হলেও রহস্যজনক কারণে দাম বাড়ছে। সরকারের বাজার মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ অসাধু ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন জানিয়ে সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে সয়াবিন, পাম ও সুপার পামের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৩০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং রেট বেড়েছে। গতকাল পর্যন্ত সয়াবিনের বুকিং রেট ছিল প্রতি টন ১১৫০ ডলার এবং পাম অয়েল প্রতি টন ১১৩০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দেয়ার অন্তত এক মাস পর সেই রেটের পণ্য আমাদের দেশে আসে। কাজেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সাথে সাথেই আমাদের দেশে এর প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র শবই মেরাজের পর হতে সয়াবিন, পামতেল, সুপার পাম এবং ডালের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের মধ্যে পাঁচ লিটারের বোতল কোম্পানি ভেদে ৯৩০ থেকে ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও কোম্পানি ভেদে ২৫ টাকা কম ছিল।
এদিকে গতকাল রোববার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ সাত হাজার ৪০ টাকা। পামতেল বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন ১৯২ টাকা প্রতিকেজি সয়াবিনের ক্রয়মূল্য এবং তারা বিক্রি করছেন ১৯৬ টাকা প্রতিকেজি। পামতেলের প্রতি কেজি ক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। সুপার পামতেল প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার ৩০০ টাকা। খোলাবাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়।
পাইকারি ব্যবসায়ী দিদারুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকারের মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে মানুষ স্বস্তি পাবে। নইলে রমজানে মানুষের কষ্ট বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যবসায়ী সৈয়দ মো: আবু তৈয়ব বলেন, মিল থেকে সরাসরি ভোজ্যতেল বাজারে আসে না। কয়েক হাত ঘুরে বাজারে আসে এবং এর মধ্যেই সঙ্কটগুলো তৈরি হয়। তিনি বলেন, রমজানে ভোজ্যতেলের সঙ্কটের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকার ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে তেল চিনি বিক্রি করলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
এ দিকে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তছলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পামতেলের বুকিং রেট ১৫০ ডলার পর্যন্ত টন প্রতি বেড়েছে। কিন্তু এর প্রভাবতো এখন পর্যন্ত বাজারে নেই এবং সামনে রমজানেও বাজারে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান।