নিজেকে স্বৈরশাসক স্বীকার করে বিতর্কে ট্রাম্প

Printed Edition
onno-4
নিজেকে স্বৈরশাসক স্বীকার করে বিতর্কে ট্রাম্প

এনডিটিভি

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) ভাষণ দেয়ার পর এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে তুলনা করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

বুধবার দাভোসে সিইওদের জন্য আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি ভালো ভাষণ দিয়েছি এবং খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সাধারণত তারা বলে যে আমি একজন ভয়াবহ একনায়ক ধরনের মানুষ, হ্যাঁ আমি একজন স্বৈরশাসক। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাদের একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়!’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন একসময়ে এলো যখন তিনি গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার দেয়া বক্তব্যগুলো রক্ষণশীল বা উদারপন্থী কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তা কেবল ‘সাধারণ জ্ঞান’ বা কমন সেন্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অবশ্য ট্রাম্প এবারই প্রথম নিজেকে একনায়কের সাথে তুলনা করলেন তা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ওয়াশিংটনে ফেডারেল দমন-পীড়ন জোরদার এবং জাতীয় পতাকা পোড়ানো ব্যক্তিদের বিচারের নির্দেশ দেয়ার সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনেক আমেরিকানই হয়তো একজন একনায়ককে পছন্দ করবেন। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘অনেকেই বলছে যে আমরা হয়তো একজন একনায়ককেই পছন্দ করি। তবে আমি একনায়ক হতে পছন্দ করি না। আমি কেবল অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান মানুষ’।

ট্রাম্পের এই একনায়কসুলভ আচরণের প্রতিফলন দেখা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরশাসকদের প্রতি তার বিভিন্ন সময়ে করা প্রশংসার মাধ্যমে। তিনি বারবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে ‘খুবই বুদ্ধিমান’ এবং ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি ২০২২ সালে ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণকেও তিনি ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেছিলেন।

একইভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনকে ‘কঠিন মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। দাভোসের এই সম্মেলনেও তার বক্তব্যে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের জেদ এবং ন্যাটো মিত্রদের প্রতি হুমকির সুর বজায় ছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনার পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখলে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না এবং এর বিরোধিতাকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও আপাতত সরে এসেছেন। এর বদলে আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। ট্রাম্পের এই হঠাৎ সুর নরম করায় আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তার ‘একনায়ক’সুলভ মন্তব্য এবং অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ইউরোপীয় ও কানাডীয় নেতাদের মধ্যে এখনো গভীর সংশয় রয়ে গেছে।