সিলেটে ভোটের মাঠে ৫ বিদ্রোহী চাপে বিএনপি-জোট
Printed Edition
‘বিদ্রোহীদের পে সমর্থন না থাকায় ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বিএনপি ও জোট প্রার্থীরা এগিয়ে যাবেন’
এমজেএইচ জামিল সিলেট ব্যুরো
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু হলেও সিলেট বিভাগের পাঁচটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় দলীয় ও জোট প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বহিষ্কারের পরও বিদ্রোহীদের পে দলের একটি অংশ মাঠে সক্রিয় থাকায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোটের হিসাব নিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন তারা।
সিলেট বিভাগে বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে। এখানে প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদের শক্ত অবস্থান এবং জামায়াত জোট থেকে কওমি আলেম খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসানকে মনোনয়ন দেয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা কয়ছর এম আহমদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তার প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ায় এবং বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তার পে কাজ করায় এই আসনে মূল লড়াই জমে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এখানে বিএনপি প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আসনটিতে জামায়াত জোট থেকে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় মাঠে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের হাফেজ মোস্তাক আহমদ ও এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। আসনটিতে জামায়াত জোটের একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু। এখানেও বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। এই আসনে জামায়াত জোট থেকে একক প্রার্থী রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সিরাজুল ইসলাম মীরপুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ধানের শীষের রেজা কিবরিয়া।
এ বিষয়ে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় একাধিক নেতা জানান, দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পইে মাঠে রয়েছেন। তাদের দাবি, বিদ্রোহীদের পে সংগঠিত সমর্থন না থাকায় ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বিএনপি ও জোট প্রার্থীরা এগিয়ে যাবেন।