১৪ জনের নামে মামলা

ধুনটে জামায়াতের হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় বিএনপির হামলা

Printed Edition

বগুড়া অফিস ও ধুনট সংবাদদাতা

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে এলাঙ্গী বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জামায়াত কর্মী সামিউল ইসলামকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অন্য আহতরা হলেন এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি আইয়ুব আলী (৫০), মাসুদ রানা (৪৯), জিয়াউর রহমান (৪৫), জিয়াউর রহমান ঠান্ডু (৪৩), আবু বক্কার (৪৮) ও রবিউল ইসলাম (৪৩)। তাদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

হামলার শিকার নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে জামায়াতের বগুড়া-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ দবিবর রহমান অভিযোগ করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই এ পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্য দিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র। মারধর বা পরিকল্পিত হামলার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আব্দুল করিম বাদি হয়ে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৪ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।