কয়রায় দেড় যুগ ধরে বন্ধ বিটিসিএল
প্রলয়ঙ্করী আইলার ১৫ বছর পার হলেও নেটওয়ার্ক সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি
Printed Edition
কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রায় দেড় যুগ ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে যেমন আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রাহকেরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি বছর গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ লোকসান।
বিটিসিএল কয়রা ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানায়, ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো উপজেলা প্লাবিত হলে বিটিসিএলের ক্যাবল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর পার হলেও নেটওয়ার্ক সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে উপজেলাজুড়ে বিটিসিএলের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যান্ডফোন ও বিটিসিএল ইন্টারনেট সেবার চাহিদা থাকলেও নতুন সংযোগ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, এক্সচেঞ্জ কার্যালয়ের আধা কিলোমিটারের মধ্যে উপজেলা পরিষদ, থানা ও পোস্ট অফিসে মাত্র ৩৯টি সংযোগ থাকলেও তার অধিকাংশ অচল। বিটিসিএল সেবা না থাকায় সরকারি দফতর, আদালত, এনজিও ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দাফতরিক যোগাযোগ ও গোপনীয়তা রক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই স্টেশনের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন একই এলাকায় ১২ বছর ধরে কর্মরত থাকলেও তাকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি গ্রাহক সেবার পরিবর্তে নিজস্ব মাছ চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওলিউল্যাহ বলেন, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরের সাথে গোপনীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেলিফোন খুব কার্যকর। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় আমরা ভোগান্তিতে আছি।
কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সরকার এই খাতে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, নতুন প্রকল্প চালু হলে আবার সেবা চালু সম্ভব হবে। খুলনা বিটিসিএলের ব্যবস্থাপক (টেলিকম) মেহেদী হাসান বলেন, দ্রুত নতুন সংযোগ চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং স্থানীয় অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।