১৩ দিন পর আজিজুরের লাশ পেল পরিবার
Printed Edition
রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছিলেন দিনমজুর আজিজুর রহমান (৪৬)। এরপর চলে নির্যাতন। বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ভারতের হাসপাতালে। পরবর্তীতে ছিলেন কারাগারে। গত ২২ মার্চ ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর ভারত থেকে আজিজুরের লাল ফেরে দেশে।
মৃত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মরতুস আলীর ছেলে। তার দুই মেয়ে ও এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলের দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ। এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুসসহ ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশী উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ও মৃত আজিজুরের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আজিজুর রহমানের জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে লাশ হস্তান্তর করে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ।
সূত্র জানায়, গত বছরের ১৩ মে রানীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ সীমান্তে ঘাস কাটতে গেলে আজিজুরকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যায় আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। সেখানে বেধড়ক মারধরে তার পা ভেঙে দেয়া হয় এবং গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ আজিজুর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে ওই দিন বিকেলে আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি মারা যান।