বরগুনায় সংঘর্ষে জামায়াতের ৪ নেতা কারাগারে, বিএনপির ৩ জন জামিনে

Printed Edition

বরগুনা প্রতিনিধি

নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচনী মাঠে উভয় দলের প্রার্থীর শক্ত অবস্থানকে কেন্দ্র করে পাথরঘাটায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতের চার নেতাকর্মী কারাগারে গেছেন। অন্য দিকে বিএনপির তিন নেতা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

জানা যায়, পাথরঘাটায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানসহ চারজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার বিএনপির তিন নেতাকে জামিন দেন আদালত। গত শনিবার বিকেলে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পনির শেখ এ আদেশ দেন। আদেশের পর জামিন নামঞ্জুর হওয়া চার আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কে নিজের মালিকানাধীন একটি ফার্মেসি থেকে পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে পাথরঘাটা পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে জামায়াত ও বিএনপির মোট ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (৫৭), উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব ওমর সানী (৩০), পাথরঘাটা পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত নেতা নাসির চৌধুরী (৪৭), পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবির নেতা আব্দুর রহমান (২৬), চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া ওয়ার্ড জামায়াত নেতা নাসির শেখ (২৫) এবং একই এলাকার বিএনপি নেতা মোস্তফা হাওলাদার (৫৩)।

আদালতের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা লাকি জানান, আবুল কালাম আজাদ, ওমর সানী ও মোস্তফা হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। অপর চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চরদুয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন আহত সেলিম বেপারীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন বাদি হয়ে পাথরঘাটা থানায় ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানকে ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।

বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা: সুলতান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ার পর প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো: নূরুল ইসলাম মনিরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মো: শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরগুনা-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্ব যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।