পাকুন্দিয়ায় ভুয়া কাগজে ব্যক্তিমালিকানার জমিদার বাড়ি প্রতœসম্পদে তালিকাভুক্তি

Printed Edition
bangla-5
পাকুন্দিয়ায় ভুয়া কাগজে ব্যক্তিমালিকানার জমিদার বাড়ি প্রতœসম্পদে তালিকাভুক্তি

মুহিব্বুল্লাহ বচ্চন পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র উপস্থাপন করে সৎ চাচাতো ভাইদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিদার বাড়ির সম্পত্তি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের তালিকাভুক্ত করানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন, তাদের সম্মতি ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তিটি সংরক্ষিত প্রতœসম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পত্তি ফেরত ও আইনি প্রতিকার চেয়ে তারা প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরে লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দফতরের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় অবস্থিত ‘রঘুনাথ ভবন’ নামে পরিচিত ১ দশমিক ৩৭ একর জমির ওপর নির্মিত জমিদার বাড়িটি ২০২৩ সালের ১৮ মে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের তালিকাভুক্ত হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা বিপ্লব রায়, শিপন সাহা ও শুভ রায় দ্বীপন, এই তিন সৎ চাচাতো ভাই নিজেদের অংশ বিক্রি করে দিয়ে বাকি সম্পত্তিকে প্রতœসম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।

ভুক্তভোগীরা হলেন- শশী মোহন সাহা রায়ের পাঁচ ছেলে, স্বপন কুমার সাহা রায়, উত্তম কুমার রায়, গৌতম রায় (সোখন), অশেষ কুমার সাহা রায় ও অসীম কুমার সাহা রায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিদার রায় মোহন সাহা রায় ছিলেন এ সম্পত্তির মালিক। তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান শশী মোহন সাহা রায় দীর্ঘদিন পরিবারসহ রঘুনাথ ভবনে বসবাস করে আসেন। তিনি মৃত্যুবরণ করলে তার পাঁচ ছেলে বাড়িটি দেখভাল ও বসবাস অব্যাহত রাখেন।

সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়। তখনই তারা জানতে পারেন, বাড়িটি প্রতœতত্ত্ব তালিকাভুক্ত হওয়ায় কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন করা যাবে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি এবং সব ওয়ারিশের সম্মতি ছাড়া তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী অশেষ কুমার সাহা রায় বলেন, পুরাকীর্তি আইন, ১৯৬৮ অনুযায়ী সব মালিকের সম্মতি ছাড়া কোনো সম্পত্তিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা বেআইনি। তারা সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আফরুজা খানম মিতা বলেন, ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িটি পরিদর্শন করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।