নয়া দিগন্তকে মাছুম মোস্তফা
এমপি হয়েও নিরাপত্তাহীন হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
Printed Edition
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
“একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি আমাকে আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ৫ আগস্টের পর কি আমরা এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?”- এভাবেই নিজের ওপর হওয়া বর্বরোচিত হামলা ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, “সংসদে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মিছিল-মিটিং করছে। আর পুলিশ নীরব দর্শকের মতো কেবল তাকিয়ে দেখছে।”
গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কপথের আতকাপাড়া এলাকার একটি পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল নেয়ার সময় অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা এমপির ব্যবহৃত গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। জীবন বাঁচাতে তিনি পাশের একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় মুসল্লিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে প্রায় এক ঘণ্টা মসজিদে অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কারণে অধ্যাপক মাছুম মোস্তফাকে দীর্ঘদিন ধরে হামলা, মামলা, জেল ও জুলুমের কবলে পড়তে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এক দিনের জন্যও তার নির্ধারিত চেয়ারে বসতে দেয়া হয়নি; বরং সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ রাখা হয়েছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে একমাত্র মাছুম মোস্তফাই বিজয়ী হন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদারকে পরাজিত করার পর থেকেই তিনি স্থানীয় প্রতিপক্ষের চক্ষুশূলে পরিণত হন। এর আগে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানেও পরাজিতের পক্ষের একাংশ অনুষ্ঠান বয়কট করে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করে। সর্বশেষ সশরীরে হামলার ঘটনাটি তার রাজনৈতিক জীবনের নিরাপত্তাকে আরো হুমকির মুখে ফেলেছে।
ভুক্তভোগী এই সংসদ সদস্য মনে করেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার পরও এভাবে অবরুদ্ধ ও আক্রান্ত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। তিনি দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।