খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে জাইকার অর্থায়নে ২ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার প্রকল্প
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রফতানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে দুই হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দফতরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান ইচিগুছি তমুহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য জাপানের বাজারে রফতানির উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে জাপানসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে জাপান ও আসিয়ান দেশগুলোর মতো একক এবং সুবিন্যস্ত খাদ্য ব্যবসা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান শুরু করেছে।
জাইকার অর্থায়নে দশ বছর মেয়াদি দুই হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার ‘ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ঢাকায় একটি আধুনিক ফুড সেফটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও খুলনায় দু’টি খাদ্য পরীক্ষাগার এবং একটি প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে দেশের খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা ও যাচাই আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যা রফতানি সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থাকে যদি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায়, তাহলে দেশের খাদ্যপণ্য রফতানির পথ আরো সহজ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফুড সেফটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারলে খাদ্য রফতানির বড় সুযোগ তৈরি হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এ খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয়সহ প্রতিটি ধাপে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্ত্রী ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, খাদ্য সচিব মো: ফিরোজ সরকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।