নিরাপদ খাদ্য দিবসের আলোচনায় উপদেষ্টা

খাদ্যের চাহিদা বাড়ার সাথে রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে উৎপাদিত মাছ, গোশত, দুধ, ডিমসহ সব ধরনের খাদ্য যেন নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্যের চাহিদা বাড়ার সাথে চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। নানা ধরনের রোগবালাই উঁকি দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের ক্রমে উন্নতির দিকে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টখাতগুলোকে খাদ্যের নিরাপত্তায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এ সভার আয়োজন করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’।

খাদ্যসচিব মো: ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিসচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফএসএ’র চেয়ারম্যান জাকারিয়া, খাদ্য নমুনা পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিএফএসএ’র সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা, মূলপ্রববন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মাহমুদুল হাসান সিকদার। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সংগীতা আহমেদ, শেরেবাংলা কৃষি (শেকৃবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বর্তমানে খেজুরের রস খেলে নিপাহ ভাইরাস হতে পারে। অথচ আমাদের ছেলেবেলায়ও বাদুড় ছিল। তখন এ রোগ হয়নি। তাহলে এখন এটি আপদ হয়ে কেন দাঁড়াল তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। পাঙ্গাস বড় করার ক্ষেত্রে হরমোনসহ বেশকিছু পথ বেছে নেয়া হচ্ছে সেটি সঠিক কি-না তা খতিয়ে দেখতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, সেই সাথে সেটি যেন নিরাপদ থাকে তাও দেখতে হবে।

আগে কৃষিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার হতো না। পরে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। এখন সার ও কীটনাশক ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এর কারণে মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তবে এর ব্যবহার কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আশা করি হয়তো ব্যবহার কমে একটা মাত্রায় চলে আসবে।

ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, কৃষি, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ আন্তঃমন্ত্রণালয় খাদ্য নিরাপদ করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সপ্তাহেই কৃষি উন্নয়নে ২৫ বছরের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে হবে সবার জন্য। শুধু মানুষ নয় সব প্রাণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।

কৃষিসচিব বলেন, প্রকল্প দেখতে গিয়ে দেখি সবজিতে পানির সাথে কীটনাশক মেশানো হচ্ছে। জড়িত নারীকে প্রশ্ন করা হয় এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর জানেন কি-না? জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো এটা খাবো না। অর্থাৎ অন্যরা কী খাচ্ছে সেটি আমরা দেখছি না। নিজেরা যা খাচ্ছি তা ভালোভাবে করলেও অন্যদের ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে না।