পেঁয়াজের দাম কমায় বিপাকে নগরকান্দার চাষিরা
Printed Edition
কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা (ফরিদপুর)
পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা এবার বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় চাষাবাদ করলেও রমজান মাসেই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
গত শুক্রবার নগরকান্দা উপজেলার বালিয়া বাজারের পেঁয়াজ হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। নগদ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ক হালি পেঁয়াজও কম দামে বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
বালিয়াগট্টি গ্রামের কৃষক জসিমউদ্দিন জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারদরে খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম না পেলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।’
বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনে প্রতি মণে প্রায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়েছে। কিন্তু এখন কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার একই অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৬ টাকায় কেনা হচ্ছে। বাজারে দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়ছেন।
নগরকান্দা-সালথা অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত পেঁয়াজের হাট বসে, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। তবুও কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে তাদের ঘাম ঝরানো ফলন লোকসানের ট্রাকেই চলে যাচ্ছে।
চাষিদের দাবি, পেঁয়াজের জন্য সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও প্রতিটি এলাকায় হিমাগার নির্মাণ করা হলে তারা ফসল সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, বাজারে চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কম। সম্ভব হলে কৃষকদের কিছু দিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দেন তিনি।