উজিরপুরে নিলাম ছাড়াই সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ

Printed Edition

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় নিলাম ও রেজুলিউশন প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওটরা-সাতলা সড়কের পাশে থাকা ১২ থেকে ১৫টি সরকারি গাছ গোপনে বিক্রি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গাছ চিহ্নিত করে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজন এবং উপজেলা রেজুলিউশন বইয়ে সভার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক। তবে এসব প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির স্থানীয় কাঠব্যবসায়ী নিমচাদ বড়ালের কাছে গাছগুলো বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে এম আলী টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সামনে বন বিভাগের গাছগুলো কেটে স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল মন্ডল জানান, নিমচাদ বড়াল নামের এক ব্যবসায়ী গাছগুলো কেটে রেখেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাঠ ব্যবসায়ীর এক ঘনিষ্ঠজন দাবি করেন, কলেজের বাউন্ডারি ওয়ালে চাপ সৃষ্টি করায় এবং ঝড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। তার ভাষ্য, সড়ক পরিষ্কারের পারিশ্রমিক হিসেবেই বন কর্মকর্তা গাছগুলো তাদের দিয়েছেন। তবে গাছের সংখ্যা ও মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সেখান থেকে সরে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী দাবি করেন, গাছগুলো প্রায় ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, যদিও বাজারমূল্য কমপক্ষে দুই লাখ টাকা হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, ‘নিলাম ও রেজুলিউশন প্রক্রিয়াতেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে।’ তবে রেজুলিউশন দেখানোর অনুরোধ করা হলে তিনি বিষয়টি পরে গোপনে আলোচনা করার কথা বলেন।

এদিকে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা জানান, কোনো অবস্থাতেই নিলাম ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রি করা বৈধ নয়।