নোবেল নিয়ে মাথা ঘামাই না, এটি নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে : ট্রাম্প

Printed Edition

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে তিনি মোটেও ‘মাথা ঘামান না’। তবে একই সাথে তিনি দাবি করেছেন, নরওয়ে সরকারই প্রকৃতপক্ষে এই পুরস্কার নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও নরওয়ের নেতারা ট্রাম্পের এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নোবেল পুরস্কার নিয়ে চিন্তা করি না।’ তিনি ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘একজন অত্যন্ত সম্মানিত নারী (মাচাদো) মনে করেছিলেন আমি এটি পাওয়ার যোগ্য। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে তিনি তার নিজের ১৮ ক্যারেট সোনার নোবেল মেডেলটি আমাকে উপহার দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, মাচাদোর এই পদক্ষেপের পর নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুরস্কারের মেডেল বা ডিপ্লোমা কাউকে হস্তান্তর করা সম্ভব হলেও পুরস্কারের মূল সম্মান ও স্বীকৃতি কেবল বিজয়ীর সাথেই যুক্ত থাকে।

সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যেহেতু আপনাদের দেশ আমাকে আটটি যুদ্ধ বন্ধের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি এখন থেকে কেবল ‘শান্তি’ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো ও উপযুক্ত তা নিয়েই ভাবব।’

জবাবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার একটি স্বাধীন কমিটি প্রদান করে। এখানে নরওয়েজিয়ান সরকারের কোনো কর্তৃত্ব নেই।’ তবে ট্রাম্প এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘যারা মনে করে নরওয়ে নোবেল নিয়ন্ত্রণ করে না, তারা নিজেদের ধোঁকা দিচ্ছে। নরওয়ে কী বলল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’

নোবেল না পাওয়ার বিষয়টিকে ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আকাক্সক্ষার সাথে যুক্ত করেছেন। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবেলায় গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।

এই ইস্যুতে ডেনমার্ক ও তার মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে আগামী জুনে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। ন্যাটো জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। শেষে ট্রাম্প আবার দাবি করেন, ‘আমি নোবেল নিয়ে ভাবি না, আমি জীবন বাঁচানো নিয়ে ভাবি। আমরা আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি এবং খুব শিগগিরই হয়তো নবমটি থামাব।’