বগুড়ার ৭ আসনেই বিএনপি জামায়াত জমজমাট লড়াই

চ্যালেঞ্জের মুখে তারেক রহমানও

Printed Edition

বগুড়া অফিস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বগুড়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। বিএনপির এক সময়ের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলার সাতটি আসনেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে জেলার সাতটি আসনেই বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। এ ছাড়া জেলার অপর ছয়টি আসনের অধিকাংশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর দিকে বিএনপির দাবি নির্বাচনেই প্রমাণ হবে বগুড়া জেলা বিএনপির ঘাঁটি আছে। এ জেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য কোনো দলের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) : এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: শাহাবুদ্দিন ভোটারদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করা হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলামকে। এ দুইজনের মধ্যে কাজী রফিক বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণখেলাপি হওয়ায় ইমেজ সঙ্কটে পড়েছেন। অপর দিকে একজন শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শাহাবুদ্দিনের আলাদা ইমেজ রয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) : এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদাতুজ্জামান ভোটারদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমকে নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানা কারণে নেতিবাচক আলোচনা রয়েছে। এই আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রার্থী হলেও তার তেমন কোনো প্রচার নেই।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) : এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার ও জামায়াতের নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরের মধ্যে। জামায়াতের তরুণ প্রার্থী নূর মোহাম্মাদ নিজেকে যেভাবে ভোটারদের মাঝে তুলে ধরেছেন বিএনপি প্রার্থী তেমনটা ব্যক্তি ইমেজ সৃষ্টি করতে পারেননি।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) : বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোশারফ হোসেনের সাথে তরুণ জামায়াত নেতা ডক্টর মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। পারভেজ তরুণ ও নারী ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। অপর দিকে বিএনপি প্রার্থী দলের একাংশের কাছে এখনো পছন্দের হতে পারেননি।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও জামায়াতের প্রার্থী শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ দবিবুর রহমানের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দুইজনই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে ভোটারদের কাছে কোটিপতি প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাদের কর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছেন। প্রথমবার প্রার্থী হওয়ায় দবিবুর রহমানের ক্লিন ইমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

বগুড়া-৬ আসন (সদর) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সশরীরে ভোটারদের মাঝে গণসংযোগ করেননি। সম্প্রতি বগুড়া শহরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি ভোট চেয়েছেন। এ ছাড়া দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল করেছেন। তিনি প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছেন।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বগুড়া জেলা জাাময়াতের সাবেক আমির গোলাম রব্বানী ও বিএনপির প্রার্থী গাবতলী উপজেলা সভাপতি মোর্শেদ মিল্টনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দুইজনই নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দিনরাত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। এখানে বিএনপির দলীয় কোন্দলের সুবিধা পেতে পারে জামায়াত। এ ছাড়া জামায়াত প্রার্থী গোলাম রব্বানী প্রতিটি এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।