হৃদয় কাড়লেন ভক্তদের হৃদয়

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তৌহিদ হৃদয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন প্রতিশ্রুতিশীল এবং রেকর্ডধারী ব্যাটার। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিশেষ করে টি-২০ ফরম্যাটে বেশ কিছু অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টি-২০ সিরিজে দ্রুততম টি-২০ ফিফটি (২৭ বলে ৫১ রান) করেন, যা রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দলের জয় নিশ্চিত করে। গতকাল চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের ১৮৩ রান তাড়া করে তৌহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারীর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ টি-২০-তে রেকর্ড জয় পায়। তা ছাড়া ওয়ানডে ও টি-২০ উভয় ফরম্যাটেই হৃদয় দ্রুততম সময়ে ১০০০ রান ও ধারাবাহিক ফিফটি হাঁকিয়ে নিজের রেকর্ড মজবুত করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-২০ তে সাকিব আল হাসানের রেকর্ড ভেঙে টি-২০-তে বাংলাদেশের হয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বর্তমানে টি-২০ দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটিং ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লক্ষ্যটা ছিল ১৮৩ রানের। এই পথ পাড়ি দিতে শুরুতেই খুব বেশি উইকেট হারালে বিপদে পড়তে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু তেমন কোনো বিপদে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারানোর পর মাঝের ওভারে ইনিংসের হাল ধরেন হৃদয়-ইমনরা। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুধু ইচ্ছাশক্তির বলে বলীয়ান হয়ে প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করল টাইগাররা। সাগরিকায় হৃদয়, ইমন আর শামীম তিন মিডল অর্ডারকেই দেখে মনে হলো সাহস, আস্থার প্রতিমর্যাদা। শুরুতে ওভারপিছু ৯.১৫, সেটা বেড়ে তখন ১০.৭০। কিন্তু তারা ওই অবস্থায়ও নির্ভীক, সাহসী। তিন তরুণের চোখ-মুখ আর শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল, ম্যাচ জিতে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়তে চাই। কোনোভাবেই সাহস হারানো যাবে না। লড়াই করতে হবে বুক চিতিয়ে। তিনজন করলেনও তাই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-২০তে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে হৃদয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জিতেছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২৭ বলে ২ চার এবং ৩ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস। ম্যাচ শেষে জানালেন, পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে ব্যাটিং করেই সফল হয়েছেন তিনি।

দলের জয়ের দিনে ১৩ বলে শামীমের অবদান ৩১ রান। এই ব্যাটারের প্রশংসা করতে ভোলেননি হৃদয়। তিনি বলেন, উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। তানজিদের সাথে ব্যাটিং করার সময় আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে চেয়েছি এবং সেটিই করার চেষ্টা করেছি। তখন আমাদের রান দরকার ছিল, তাই আক্রমণাত্মক খেলেছি। শামীম অসাধারণ খেলেছে। সে নেমে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।

ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব হৃদয়, শামীম, ইমনদের দিয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি বলেন, জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারাটা অবশ্যই দারুণ। আমার মনে হয় এটি খুব ভালো একটা ম্যাচ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ে আমি খুশি, বিশেষ করে হৃদয়। সে এবং ইমন মাঝের ওভারে খুব ভালো খেলেছে, আর শেষটা দারুণভাবে শেষ করেছে শামীম।

বাংলাদেশ ম্যাচটা ঠিক কোথায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন লিটন, পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই উইকেটে ১৮৩ রান বড় স্কোর, কারণ ব্যাটিংটা খুব সহজ ছিল না, ইনিংস বদলের পর উইকেট কিছুটা ধীর হয়ে গিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, পাওয়ারপ্লেতে রান দরকার। শুরুটা ভালো হলে মিডল অর্ডারের জন্য কাজ সহজ হয়ে যায়। ইমন, হৃদয় আর শামীম যেভাবে ব্যাট করেছে, দেখে সহজ মনে হলেও আসলে তা ছিল না। আমি ক্রিজে স্বচ্ছন্দই ছিলাম। তবে একটা বল নিচু হয়ে গিয়েছিল। একজন ব্যাটসম্যানের জন্য একটা বলই যথেষ্ট, এভাবে নিচু হয়ে এলে কিছু করার থাকে না।’

চট্টগ্রামে হৃদয়, ইমন আর শামীম একসঙ্গে জ্বলে উঠে দরকারি কাজটি করেছেন বলেই শেষ অবধি বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতেছে। সবচেয়ে বড় কথা, তিনজনই খেলেছেন হিসেব কষে। হৃদয় যখন নেমেছেন, তখন দল লক্ষ্যমাত্র থেকে খানিক পিছিয়ে। তাই শুরুতে একটু বেশি মেরে খেলে প্রথম ১৪ বলে করে বসেন ৩৩ রান। তারপর ইমন হাত খুলে খেলতে শুরু করলে খানিক গুটিয়ে নিয়ে অপর প্রান্তে নটআউট থাকার চিন্তায় মনোযোগী হৃদয় শেষ ১৭ রান করেন। ম্যাচ জেতার অদম্য ইচ্ছে টাইগার ভক্তদের মন কেড়েছে।