ওবায়দুল কাদেরকে ফোনে শামীম ওসমান
‘অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে নেত্রী যেন রাগ না করেন’
শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না। সাহায্য চাইছে। আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে। আমি কিন্তু আর অস্ত্র ছাড়া মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। আর সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমাকে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগং রোড খালি করতাছি। আপনি একটু আপাকে অর্থাৎ আপনি একটু নেত্রীকে বলে দিয়েন, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করেন।’
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের এই ফোনালাপের তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন এই চাঞ্চল্যকর কথোপকথন উপস্থাপন করেন।
নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গতকাল এ আদেশ দেন। একই সাথে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমান।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই ও ৫ আগস্ট এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের সদর, ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় মোট তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯ জুলাই শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ওবায়দুল কাদেরের সাথে তার কথোপকথনের কল রেকর্ড ও সিডিআরের ফরেনসিক টেস্টের রিপোর্ট আমরা আদালতে জমা দিয়েছি।’
প্রসিকিউটর তামিম আরো উল্লেখ করেন, ফোনালাপ থেকে এটি স্পষ্ট যে শামীম ওসমান নিজ হাতে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে একপ্রকার ‘অনুমোদন’ নিয়েই তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড এলাকায় তাণ্ডব চালান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) রোষানল থেকে বাঁচতে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে আগেভাগেই বিষয়টি জানিয়ে রাখতে অনুরোধ করেছিলেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, দাখিলকৃত তথ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছেন এবং আসামিদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছেন।