মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দ্বন্দ্বে সুযোগ নিতে পারে জামায়াত জোটের প্রার্থী
Printed Edition
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিতে পারে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকায় বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বিভাজন নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি নূর হোসাইন নুরানী রিকশা প্রতীক নিয়ে নীরবে প্রচারণা চালিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে এর সরাসরি সুবিধা পাবেন খেলাফত মজলিসের এই প্রার্থী।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতীতের সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ তরুণ ও ভাসমান ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলভিত্তিক ক্যাডার রাজনীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি আগের মতো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না বলে মত দিয়েছেন অনেক ভোটার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ ভোটার বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই। ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে রাজনীতি করা বা ভোট আদায় করা এখন আর চলে না। মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং নিজের মত প্রকাশে কোনো দ্বিধা করে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে তরুণ ও ভাসমান ভোটাররাই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ফলে দলীয় কোন্দল ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি যেকোনো প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে বিজয় আসে, তা নির্ভর করবে ভোটের আগ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।