বংশালে ফ্ল্যাটের দলিল চাওয়ায় বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-পানিসংযোগ

অমানবিক পরিস্থিতির মুখে গোটা পরিবার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরান ঢাকার বংশালে ফ্ল্যাট কিনে চরম এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন হাসিব চৌধুরী ও নিশাত জাহান দম্পতি। ফ্ল্যাটের দলিল চাওয়ায় গত দুই মাস ধরে তাদের বিদ্যুৎ ও পানিসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন ভবন মালিক। দুই শিশু সন্তান, অসুস্থ বাবা ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অন্ধকারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে পুলিশ ও পঞ্চায়েত- সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

ঘটনাটি বংশালের মকিম বাজার এলাকার ১৬৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের ‘সাদেক টাওয়ারের’। ভুক্তভোগী হাসিব চৌধুরী জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ভবন মালিক শামীম আরা পুতুলের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা। বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো দলিল ছাড়াই ২০২৫ সালের আগস্টে নগদ ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ২০ লাখ টাকার চেক দেয়া হলেও শর্ত ছিল- দলিল বুঝিয়ে দেয়ার পর ভবন মালিক সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন।

ভবন মালিকের পরামর্শে আরো ১৫ লাখ টাকা খরচ করে ফ্ল্যাটটি ডেকোরেশন করে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন হাসিব। কিন্তু কয়েক মাস যেতেই মালিক শামীম আরা পুতুল দলিল না দিয়েই বাকি ২০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। হাসিব যখন দলিল দেয়ার শর্তে টাকা পরিশোধের কথা বলেন, তখনই শুরু হয় অমানবিক আচরণ। তাকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দেয়ার জন্য হুমকি দেয়া হয় এবং গত ফেব্রুয়ারি (রমজান মাস) থেকে ওই ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

নিরুপায় হয়ে হাসিব দম্পতি বংশাল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের উপস্থিতিতে সংযোগ দেয়া হলেও তারা চলে যাওয়ার পরপরই আবারো তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি ও সংসদ সদস্যের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। হাসিবের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে এবং প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। হাসিব চৌধুরীর পরিবারের দুর্ভোগের মাত্রা এখানেই শেষ নয়। একই ভবনের ৬ তলায় মর্গেজ নিয়ে হাসিবের শাশুড়ি কানিজ ফাতেমার পরিবার বসবাস করে। হয়রানির অংশ হিসেবে এখন সেই ফ্ল্যাটেরও বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। নিশাত জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুই মাস ধরে পানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া দুই শিশু আর অসুস্থ বৃদ্ধদের নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। টাকা দিয়েও আমরা আজ নিজ ঘরেই বন্দী। আমাদের অপরাধ কি শুধু দলিল চাওয়া?’

প্রভাবশালী এই ভবন মালিকের অত্যাচার ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। তারা চান, দ্রুত বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ ফ্ল্যাটের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।