বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
first-2
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শায় উলসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন : পিআইডি

যশোর অফিস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার বিগত ২০ বছর তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কোনো কাজ সম্পন্ন করেনি। বর্তমান বিএনপি সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত সব কাজ সম্পন্ন করবে। গতকাল সোমবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনের সময় তারাই জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল তারা শেষ পর্যন্ত দেখেছে দেশের মানুষের আস্থা বিএনপির ওপর। এ কারণে তাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তারা বলছে, বিএনপি নাকি ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে। অথচ ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্টদের মাফ করে দেয়ার কথা তারাই বলেছিল। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এ কারণে সংসদে আইন পাস করার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে। তাই যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছে। এটি পর্যায়ক্রমে চার কোটি মানুষ পাবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতায় যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সুদসহ ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ’৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য এসএসসি পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। আমরা সামনে ¯œাতক পর্যন্ত ফ্রি করার চেষ্টা করছি।’

জনসভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব, সাবিরা সুলতানা মুন্নী, আবুল হোসেন আজাদ প্রমুখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে শার্শার উলাশীতে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি দুপুরে যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবে সরকার

যশোর অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সরকার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ কারণে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের চিন্তা শুরু করেছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী থাকবে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিটি বাড়ির প্রধান নারীর কাছে যাবেন। কোন জিনিস কী পরিমাণ খেলে কোন রোগ হবে না সেটি বোঝাবে। এটি সফল হলে চিকিৎসা সেবায় চাপ অনেক কমে আসবে।

তিনি গতকাল বেলা ২টায় শহরের চাচড়া এলাকার হরিণার বিলে যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পাবলিক পার্টনারশিপ প্রকল্প চালু করবে। এটি করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য পুরো বিষয়টি সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো- এই কাজগুলোকে এমনভাবে সামনে নিয়ে যাওয়া, যাতে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা সহজেই তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বক্তৃতা করেন। এ ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যশোর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৬ সালে যশোরে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। পরে যশোর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১০-১১ সেশনে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

শার্শার উলাশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলায় বাবার স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। যশোরের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করা হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর আমার পিতা এই খালটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রথম খনন করেছিলেন। তখন এই এলাকার শতশত বিঘা অনাবাদি জমিতে ফসল ফলাতে সাহায্য করেছে এই খাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী পরাগ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, মোস্তফা উদ্দিন ফরিদসহ দলীয় নেতারা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর শার্শার উলাশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত।

‘বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাই ’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাই।’ সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাচ্চাদের মোবাইল থেকে বের করে খেলার মাঠ এবং বইয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। একটা পরিকল্পনা আমাদের আছে। কতটুকু সফল হবো, সেটা পরের ব্যাপার। তবে, আমরা কাজটা শুরু করতে চাচ্ছি।’

গতকাল দুপুরে যশোরের প্রাচীন গ্রন্থাগার ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি’ পরিদর্শনকালে সেখানে উপস্থিত নাগরিকদের উদ্দেশে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয় এর মধ্যে দেখেছেন, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাথে আমি বসেছিলাম কথা বলতে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সাথে কাজ করতে চাচ্ছি। আমরা চিন্তা করছি- প্রতি উপজেলার দু’টি করে প্রাইমারি স্কুল টার্গেট করে এগোতে। তিনি আরো বলেন, সেখানে আমরা শিশুদের বই দেবো। এগুলো কোনো রাজনৈতিক বই না। রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে আছে- যা এই বইয়ে থাকবে।