লৌহজংয়ে সালিশে ধর্ষণ মীমাংসা, ইউপি সদস্যের অপসারণ দাবি
Printed Edition
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গোপন সালিশের মাধ্যমে ‘মীমাংসা’ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত রোববার সকালে উপজেলার কলমা লক্ষীকান্ত উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ সড়কে এ মানববন্ধন করেন। এতে তারা অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং কলমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন হিরণ দোকানদারকে অপসারণের দাবি জানান। এর আগে শুক্রবার কলমা বাজারে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলও বের করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার বাশিরা গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ভুক্তভোগীর পরিবারকে ডেকে একটি গোপন সালিশ বসান। সেখানে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন ওই চেয়ারম্যান। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এদিকে, ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লৌহজং থানার ওসি। মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।’ একই সাথে গোপন সালিশের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
সচেতন মহল মনে করছে, এমন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হবে।