জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা নিয়ে সংসদে হইচই
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
বিএনপি দলীয় এক সংসদ সদস্যের জুলাই সনদকে আন্নেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) বলা নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল হইচই হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে এ হইচইয়ের ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি দলীয় গাজীপুর-২ (শহর ও টঙ্গী) আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, বিরোধীদলীয় এমপিরা বলছেন জুলাই আন্দোলনের সময় একজন পুলিশ অফিসার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিডিও দেখিয়ে বলেন- ‘একজনকে মারলে একজনই মরে, বাকিরা সরে না।’ তারা বলছেন ওই ব্যক্তিরা তারাই ছিল। কিন্তু সেখানেতো আমরাও ছিলাম। আমাদের যে চার শতাধিক নেতাকর্মী মারা গেছেন তাদের কিভাবে হারালাম? অথচ এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আন্নেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করা হয়েছে।
তার বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে। অথচ সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য এই সংসদে দাঁড়িয়ে সেই জুলাই আন্দোলনকে আননেসেসারি বলছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে বিভিন্ন দলের লোক রয়েছেন। যার যার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। বাকস্বাধীনতা রয়েছে। কেউ কোনো বক্তব্য দিলে পরবর্তীতে আপনাদের যখন বক্তব্যের পালা আসবে তখন খণ্ডন করতে পারবেন। এরপরই মাগরিবের নামাজের বিরতি দেন স্পিকার। নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ শুরু হলে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মাগরিবের বিরতির আগে জুলাই সনদকে আননেসেসারি বলা নিয়ে একটি বিতর্ক হয়েছে। সরকারদলীয় এমপি বলছেন তিনি জুলাই সনদ নিয়ে আননেসেসারি বিতর্কের কথা বলেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য বলছেন তিনি আননেসেসারি জুলাই সনদ বলেছেন। বিষয়টি যাচাই করে যদি আননেসেসারি জুলাই সনদ বলে থাকেন তাহলে শব্দটি এক্সপাঞ্জ করা যেতে পারে। এ সময় ডেপুটি স্পিকার যাচাই করবেন বলে জানান।
এদিকে পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এজন্য বহু মানুষ-আহত হয়েছেন। অনেকের লাশও এখনো পাওয়া যায়নি। অথচ এই সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ নাকি আননেসেসারি বলা হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার করতে হবে : নওশাদ জমির:
পঞ্চগড় থেকে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বাংলাদেশের সংবিধান দেশের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে লিখার আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কিভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা সবাই জানেন। তাই প্রকৃত ইতিহাসকে তুলে ধরতে দেশের মানুষকে নিয়ে রচিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। যারা সে সময় নৃশংসভাবে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের যারা ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা পালন করেন, সেসব আমলাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। তিনি বলেন, সুযোগ এসেছে, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে গড়ে তোলার। আমরা যদি এটা করতে পারি, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে বিদেশে এটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি দেখতে চায় না-হুইপ বকুল : ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসগুলোতে আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি দেখতে চায় না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রফিকুল ইসলাম বকুল। ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও অশানি সঙ্কেত বলেও তিনি জানান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। হুইপ রফিকুল ইসলাম বকুল বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে আবারো অশানি সঙ্কেত। এইভাবে যদি গুপ্তভাবে মব ক্রিয়েট করে ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা শুরু হয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য এইটা কখনোই সুখকর হবে না। ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন। তারা আর চায় না ক্যাম্পাস অশান্ত হোক তারা চায় ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক। আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি তারা দেখতে চায় না। তারা চায় প্রকাশ্যে সব কিছুই হবে উন্মুক্তভাবে রাজনীতির চর্চা হবে এবং যদি রাজনীতির কোনো আলোচনা করতে হয় সবার মতামতের ভিত্তিতেই একটা রূপরেখা তৈরি করা যেতে পারে। আর যদি সংসদ মনে করে ক্যাম্পাসে কি টাইপের রাজনীতি চলবে সেটা নিয়েও সংসদে আলোচনা হতে পারে। আমরা চাই ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক কোনোভাবেই আমাদের রক্তের বিনিময়ে যে ক্যাম্পাস আমরা ফিরে পেয়েছি এই ক্যাম্পাস আমরা আর নষ্ট করতে চাই না। আর চাই না কোনো মব ক্রিয়েট করে ফ্যাসিস্ট আমলে, জামানায় আমরা ফিরে যেতে চাই না। মেধার ভিত্তিতে আগামী দিনের ছাত্রসমাজ গড়ে উঠুক দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠুক চাই।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে- মাসুদ মোস্তফা : নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ মোস্তফা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে এই সংসদে ভাষণ দিতে দিতেন না। বিএনপি তাকে বক্তব্য দিতে দিয়ে নিজেদের আপসহীন চরিত্রকে আপসকামী করে ফেলেছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি এখন বলছে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এটির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। তারা মূলত নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কেটে ফেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী সফল হোন। কিন্তু আধিপাত্যবাদী একটি শক্তি তাকে গণভোট দেয়া ৭১ ভাগ জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। আমরা চাই তিনি এ ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসবেন।
রাজবন্দীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে-আখতার হোসেন : জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর উপাদানগুলো এখনো রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘হাসিনাকরণ’ বা ‘আওয়ামীকরণ’ বন্ধ না হলে কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত সুশাসন পাওয়া সম্ভব নয়।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন। এই সংসদ সেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পাশাপাশি যেসব রাজবন্দী ছিলেন, তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা নতুন করে একটি বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম, যেখানে রাজনৈতিক হানাহানি ও পেশিশক্তির পরিবর্তে পলিসিনির্ভর আলোচনা থাকবে। কিন্তু আমরা এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই পাস করা হয়েছে। সংসদকে কেবল আইন প্রণয়নের জায়গা হিসেবে নয়, বরং জনগণের পক্ষে সঠিক আইন তৈরির চর্চাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিয়ত সুপারিশ করতে হয়। এমনকি হাসপাতালে সিট পাওয়ার জন্যও সুপারিশের প্রয়োজন পড়ে। যদি প্রশাসনিক ও সেবা খাতগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে চলত, তবে মানুষের এই দুর্দশা থাকত না। সেবা খাতগুলোকে শক্তিশালী করে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
এ সময় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদীরা প্রপাগান্ডা চালিয়ে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এতে কারো প্ররোচনা নেয়া উচিত নয়।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চক্রান্ত করে শরণার্থীদের ঢল নামানোর চেষ্টা চলছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পুনরায় শরণার্থী পাঠানোর চক্রান্ত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি থাকে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি দল বা বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে এক হতে হবে। তিনি দেশের স্বার্থে যেকোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ নাকচ করে দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে হবে।
তিনি রাষ্ট্রকাঠামোর ঘুণে ধরা ব্যবস্থা সংস্কার করে গণ-অভ্যুত্থানের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা যারা এখানে আছি, তাদের মধ্যে নীতিগত ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশকে ধারণ করার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য থাকবে না। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ সংসদে আসা আমাদের ওপর বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করেছে, সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।
জাতীয় পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারে ঐকমত্য ও কাঠামোগত পরিবর্তনে জুনায়েদ সাকির আহ্বান : জাতীয় পুনর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় পুনর্গঠনের সময় অতিক্রম করছে, যা বহু আগেই রাজনৈতিকভাবে অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবণতা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা আরো শক্তিশালী হয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে গিয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে নির্বাচন ছাড়াই মতা চর্চার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণের মধ্যে জাতীয় পুনর্গঠন একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধারণা যখন সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তখন তা রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়।
জুনায়েদ সাকি বলেন, দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে নির্বাচিত করেছে এবং নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক জোটের বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত ১৪ দফা, ২৭ দফা ও ৩১ দফা কর্মসূচি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিফলিত করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, গুম-খুন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে এসব দাবি জনসমক্ষে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটা ঠিক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই আন্দোলনের সময় বলেছিলেন, আমরা এ আন্দোলনের সাথে নেই; কিন্তু এটা ছিল তার রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপিসহ আমরা সবাই এ আন্দোলনের সাথে ছিলাম।
তিনি দাবি করেন, দেশে রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। তার মতে, ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বা গোষ্ঠীভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে এবং সম্পদ পাচারের সুযোগ তৈরি করেছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সঙ্কটকে সুযোগে রূপান্তর করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ ইতিবাচক। এ পরিবর্তনকে তিনি ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাদক ও নারী নির্যাতনসহ সামাজিক সমস্যার প্রসঙ্গে সাকি বলেন, এসব সমস্যার সমাধানে কেবল আইন প্রয়োগ নয়; বরং সামাজিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও ঘৃণার সংস্কৃতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, অন্যথায় গণতান্ত্রিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঐকমত্য ছাড়া একতরফা সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসরোডে অবস্থান করছে এবং সঠিক রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমেই দেশকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।
রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর আরো বক্তৃতা করেন, নড়াইল ২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান, খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার, জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারি, ময়মনসিংহ-৬ এর কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ-৩ এর এম ইকবাল হোসেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের আফজাল হোসেন, ঢাকা-৪ এর জামায়াতের জয়নুল আবেদীন, নোয়াখালী-৪ এর মোহাম্মদ শাজাহান প্রমুখ।