রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ কোন পথে চলবে

Printed Edition
First -------- 3
রাজশাহীতে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে (ইনসেটে) তারেক রহমান বক্তব্য রাখছেন : নয়া দিগন্ত

মুহা: আবদুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে একটি মহলের ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ কোন পথে চলবে। গণতন্ত্রের পথে নাকি অন্য কোনো দিকে। আমাদের গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে।’ এ ছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। ঝগড়া-বিবাদে জড়াতে চাই না। তাই কারো সমালোচনা করছি না। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করুন। তাতে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তা করব। তবে তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ এবং বিচার হতে হবে আইন অনুযায়ী। আমরা দেশে শান্তি চাই এবং সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর পর আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহী এসেছিলাম; বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছি, শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আপনাদের সাথে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশ গড়েছেন, খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমাদের মূলমন্ত্র- করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে পদ্মা নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক মিল ও ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে সহায়তা, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আমি জনগণের কথা বলতে চাই; যে কথা বললে মানুষের উন্নয়ন ও উপকার হবে। রাজশাহীর কথা বললেই দু’টি বিষয় সামনে আসে। প্রথমটি পদ্মা নদী। কিন্তু দুঃখজনক হলো পদ্মা, তিস্তা কিংবা ব্রহ্মপুত্র, কোথাও আজ পর্যাপ্ত পানি নেই।’ তিনি বলেন, ‘নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শহীদ জিয়া বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। আমরা সেই ধারা সঠিকভাবে আবার চালু করতে চাই। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ হাতে নেবো। পুরনো পরিকল্পনাগুলোকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে। আর এর জন্য আপনাদের মূল্যবান ভোটে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।’

শিা ও কর্মসংস্থান, বেকারত্ব নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহী একটি শিানগরী। এখানে অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই; শিক্ষিত যুবকরা আজ ঘরে বসে আছে। আমাদের এই দিকে নজর দিতে হবে। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে সচল করতে চাই। এ ছাড়া আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার ও বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নের চিন্তা আমাদের রয়েছে।’

নির্বাচনে জয়ী হলে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, কৃষিতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রশিণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ার ঘোষণাও দেন তিনি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা: জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক মেয়র ও এমপি এবং রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ রাজশাহী অঞ্চলের ১৩টি আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থীরা এবং দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন।

বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউজ হয়ে মাদরাসা মাঠের সামনে দিয়ে শাহ মখদুম (রহ:)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদরাসা মাঠে জনসভাস্থলে যান। এ সময় হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান তিনি। এ সময় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সেøাগান দিতে দেখা যায়।

রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বিরাজ করছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, সেøাগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, সিএনবিসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হতে। তাদের হাতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পতাকা ছিল। ধানের শীষের সেøাগান দেন কর্মী-সমর্থকেরা। আশপাশের উপজেলার কর্মী-সমর্থকেরা বাস বা ট্রাকে চেপে যোগ দেন জনসভায়। সমাবেশে রাজশাহী ছাড়াও নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

রাজশাহীর জনসভা শেষে বিকেলে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেন।