আলেপ্পোতে সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

Printed Edition
onno-1
আলেপ্পোতে সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

আলজাজিরা ও রয়টার্স

  • শহরটি থেকে অবস্থান ছাড়তে নারাজ কুর্দি যোদ্ধারা

  • ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিধ্বস্ত শহর ছেড়ে পালিয়েছে

  • সিরীয় সরকার এবং কুর্দিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হচ্ছে

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। তবে কুর্দি যোদ্ধারা শহর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সেনারা ইতোমধ্যে আলেপ্পোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে, যা স্থানীয় ভারসাম্যকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে।

আলেপ্পো দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। শহরটির কৌশলগত অবস্থান একে সরকার, কুর্দিবাহিনী এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার সেনা ও কুর্দিবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে সিরিয়া সরকার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যাতে মানবিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি পায়।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও কুর্দি যোদ্ধারা আলেপ্পো ছাড়তে নারাজ। তাদের দাবি, শহরে তাদের উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। কুর্দি নেতৃত্ব বলছে, তারা আলেপ্পোতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে এবং হঠাৎ করে সরে গেলে জনগণ বিপদের মুখে পড়বে। অন্যদিকে সিরিয়ার সেনারা মনে করছে, শহরের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকা জরুরি, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ থাকে।

সিরিয়ার সেনারা ইতোমধ্যে আলেপ্পোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা দখল করেছে। এতে শহরের ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, সেনারা প্রবেশ করার পর কিছু এলাকায় উত্তেজনা কমলেও অন্যত্র নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর রাখতে হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। কিন্তু কুর্দি যোদ্ধাদের অনড় অবস্থান সেই সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল এ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসঙ্ঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আলেপ্পোতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শহরের হাসপাতাল, স্কুল ও বাজারগুলো ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে অন্তত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিরিয়ার এই যুদ্ধবিরতি মূলত আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার কৌশল। তবে বাস্তবে তা কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে কুর্দি বাহিনী ও সিরিয়ার সেনাদের মধ্যে আলোচনার ওপর। যদি উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আলেপ্পোর সাধারণ মানুষ এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা চায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হোক এবং শহরে শান্তি ফিরুক। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশের কারণে সেই শান্তি এখনো অধরা। কুর্দি যোদ্ধাদের অবস্থান এবং সিরিয়ার সেনাদের অগ্রযাত্রা- এই দুই শক্তির সঙ্ঘাত আলেপ্পোকে আবারো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আলেপ্পোতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কুর্দি যোদ্ধাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি এবং সিরিয়ার সেনাদের অগ্রযাত্রা শহরটিকে নতুন করে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন অপেক্ষা করছে- আলেপ্পোতে শান্তি ফিরবে, নাকি আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে এই ঐতিহাসিক শহর।