বাংলাদেশসহ ১২ দেশের ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা
Printed Edition
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্টের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি না হলে দুই অঙ্কের নতুন শুল্কহার কার্যকরের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সোমবার (৭ জুলাই) অন্তত ১২টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ওপর বসছে ৩৫% শুল্ক। ওই দিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মর্মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের একটি সুত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘শুল্ক কৌশল’-এর নতুন ধাপে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, জাপানসহ অন্তত ১২টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার বাণিজ্য আলোচনা শেষ করতে ১ আগস্টের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করার পর সোমবার একের পর এক খোলা চিঠিতে এসব ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গুরুতর বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার’ কারণে এসব দেশকে নতুন শুল্কের আওতায় আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৩৫ শতাংশ শুল্ক, যা প্রস্তুত পোশাক খাতে দেশটির অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বড় ধাক্কা হতে পারে। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের ওপর ৩৬%, লাওস ও মিয়ানমারের ওপর ৪০% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে দেয়া চিঠিতে ট্রাম্প জানান, তাদের ওপর এখন থেকে ২৫% সার্বিক শুল্ক কার্যকর হবে। কোনো পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে আনা হলে (ট্রান্সশিপমেন্ট) সেগুলোর ওপরও উচ্চ হারে শুল্ক বসানো হবে। যদি দেশগুলো পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, সেটিও যুক্ত হয়ে কার্যকর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯ জুলাইয়ের পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত দিয়েছেন চুক্তি সম্পন্নের জন্য। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই সবচেয়ে ভালো চুক্তি করতে যাচ্ছে প্রশাসন।’
তার ভাষায়- ‘এই চিঠিগুলোর মাধ্যমে বিদেশী নেতাদের জানানো হবে নতুন প্রতিশোধমূলক শুল্কহারের কথা। আগামী এক মাসের মধ্যে হয় এই চুক্তিগুলো হবে, না হয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় থাকবে। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রায় ১২টি চিঠিতে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি।
আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্টিভ লামার বলেন, এসব পরিবর্তন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ শুল্কনীতিতে কোনো নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনেনি, বরং আগের সময়সূচি থেকে সাময়িক সরে আসা। তার মতে, ‘এই কৌশল ট্রাম্পের পরিচিত দরকষাকষির ধরন যার মাধ্যমে তিনি প্রভাবিত দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ান।’
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেখানে ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলেও তার বিশদ এখনো অনিশ্চিত। লামার বলেন, আমাদের খাত এমনিতেই অনেক উচ্চ শুল্ক বহন করে। নতুন কোনো শুল্ক যোগ করা হলে তা ভোক্তার ওপর সরাসরি চাপ ফেলবে।
তিনি আরো বলেন, যখন আমেরিকান কোম্পানিগুলো চীন থেকে সরিয়ে ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর ওপর নির্ভর করছে, তখন সেখানে শুল্ক আরোপ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেসের জ্যেষ্ঠ ফেলো রায়ান মুলহল্যান্ড জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই দুটি আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এখন ট্রাম্পের এই ‘অপমানজনক চিঠি’ তাদের চীনের দিকে আরো ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে এবং আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গঠনের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি আবারো প্রমাণ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমেরিকাকে করে তোলে কম নিরাপদ, কম সমৃদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমানভাবে একা।’
তবে বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে একঘরে করে ফেলছে। ‘সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস’-এর রায়ান মুলহল্যান্ড বলেন, ‘জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ট্রাম্পের এ হঠাৎ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে দুর্বল করবে এবং চীনের প্রভাব আরো বাড়াবে।
আমেরিকান পোশাক ও জুতাশিল্প অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান স্টিভ লামার বলেন, ‘এই খাত ইতঃমধ্যেই উচ্চ শুল্কের চাপে রয়েছে। নতুন শুল্ক ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াবে এবং চীনের বিকল্প হিসেবে উদীয়মান দেশগুলোর জন্য হতাশাজনক বার্তা দেবে।’